


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার স্বার্থে এবং বিজেপির ‘বুলডোজার নীতি’র প্রতিবাদে পথে নামছে তৃণমূল। আগামী বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ, হাওড়া ও বালিগঞ্জ স্টেশন সংলগ্ন স্থানে অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচি করবেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। রাজ্যে পালাবদলের পর পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা না করেই হকারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। অভিযোগ, হকারদের সঙ্গে কথা না বলে প্রশাসন একতরফা উচ্ছেদের রাস্তায় নেমেছে। এই অবস্থায় হকারদের জীবিকা রক্ষার স্বার্থে তৃণমূলের এই কর্মসূচি বলে জানানো হয়েছে। ২১ মে’র কর্মসূচি ছাড়াও আগামী দিনে এই ইস্যুতে বৃহত্তর আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছে তৃণমূল। মঙ্গলবার কালীঘাটে নিজের বাড়িতে তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই ২১ তারিখের কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন তিনি। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়েও ওই দিন প্রতিবাদে শামিল হবে তৃণমূল।
সোমবার তৃণমূলের বৈঠকের দিকে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। বিকালে বৈঠক হয়। তার কয়েক ঘণ্টা আগে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ঘোষণা করেন, তিনি ভোট ময়দান থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই কালীঘাটে মমতার ডাকা বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়। সূত্রের খবর, তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা বৈঠকে দাবি করেন, জাহাঙ্গির যেভাবে ভোট ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন, তাতে দলের ভাবমূর্তি খারাপ হয়েছে। তাই জাহাঙ্গিরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হোক। মমতা জানান, দলের কাউকে না জানিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাহাঙ্গির। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানাননি। এর জন্য দলগতভাবে কী পদক্ষেপ করা যায়, সেটা দেখা হবে।
আরও জানা গিয়েছে, বেলেঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেন, দলের অভ্যন্তরে মন খুলে কথা বলার পরিবেশ দিতে হবে। অনেক বিষয়ে অনেক কিছু বলার আছে। তা যাতে স্বাধীনচেতা মন নিয়ে বলা যায়, সেই সুযোগ ও সময় দিতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেহেতু অনেক কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাই অভিষেককে নির্দেশ দেওয়া হোক, তিনি যেন দলের নেতাদের কথা মন দিয়ে শোনেন। সেই মতো অভিষেককে মমতা নির্দেশ দেন, আলাদাভাবে বসে সবার কথা শুনতে। দলীয় সূত্রে খবর, কয়েকজন বিধায়ক রাস্তায় নেমে আরও কর্মসূচি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তরে কথা বলেন। জনস্বার্থ সম্পর্কিত বিষয়গুলি তুলে ধরে আন্দোলনে নামার পক্ষে সওয়াল করেন তাঁরা। তৃণমূল নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশ, এখন কর্মীদের রক্ষা করা এবং তাঁদের পাশে থাকার সময়। ঘরছাড়াদের ঘরে ঢোকার ব্যবস্থা করতে হবে। যেখানে সন্ত্রাস হয়েছে, সেই ঘটনাগুলি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ করা হবে।
তৃণমূলের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।-নিজস্ব চিত্র