নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: আজ, বৃহস্পতিবার দুবরাজপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে খয়রাশোলে জনসভা করতে আসছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলা নেতৃত্বের দাবি, গত দেড় দশকে প্রশাসনিক বা দলীয় কাজে বহুবার বীরভূমে এসেছেন মমতা। কিন্তু খয়রাশোলের মাটিতে শেষবার তাঁর পা পড়েছিল ২০১১-র বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথমবার খয়রাশোলের মাটিতে জনসভা করতে আসছেন তিনি। ফলে নেত্রীকে সামনে থেকে দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছে খয়রাশোলের মানুষ।
দলীয় সূত্রের খবর, খয়রাশোলের গোষ্ঠডাঙা ময়দান থেকেই আজ দুপুর ১টায় নির্বাচনী রণদামামা বাজাবেন তৃণমূল নেত্রী। গোষ্ঠডাঙার এই সভা ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই সাজসাজ রব। বুধবার থেকেই পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে এলাকা। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সভামঞ্চ থেকে হেলিপ্যাড, পরীক্ষা করে দেখছেন পুলিশকর্তারা। সেইসঙ্গে হেলিকপ্টারের মহড়াও সেরে নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের খয়রাশোল অঞ্চল সভাপতি সত্যম গোপের দাবি, ‘তীব্র গরম উপেক্ষা করেই প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ভিড় করবেন নেত্রীর কথা শুনতে। এই সভা থেকেই বিজেপির বিদায়ের ঘণ্টা বেজে যাবে। দুবরাজপুর বিধানসভাজুড়ে এবার ঘাসফুলের জয়জয়কার হবে।’
কেন হঠাৎ খয়রাশোলকেই বেছে নিলেন মমতা? রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, গত একুশের নির্বাচনে বীরভূমের সাজানো বাগানে একমাত্র কাঁটা ছিল এই দুবরাজপুর। সেখানে পরাজয়ের ক্ষত মুছতে এবং দলের অন্তর্কলহ থামাতেই এই ব্লককে ‘পাখির চোখ’ করেছেন নেত্রী। দলের অভ্যন্তরীণ হিসেব বলছে, গতবার খয়রাশোল ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই বিজেপির কাছে প্রায় ৬ হাজার ভোটে পিছিয়েছিল তৃণমূল। এমনকি দুবরাজপুর শহরের ১১টি ওয়ার্ডেও হারতে হয়েছিল ঘাসফুলকে। এই ভরাডুবির নেপথ্যে ছিল দলের চরম গোষ্ঠীকোন্দল। বর্তমানে এই দুই ব্লকে কোনো সভাপতি নেই, দল চলছে কমিটির ভরসায়। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েই কর্মীদের একজোট হওয়ার কড়া বার্তা দিতে পারেন মমতা। দলীয় সূত্রের খবর, এদিন তৃণমূল সুপ্রিমোর সভামঞ্চে জেলার সমস্ত হেভিওয়েট নেতার উপস্থিত থাকার কথা। খয়রাশোল কোর কমিটির সদস্য কাঞ্চন দে বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর মুখ্যমন্ত্রী এখানে আসছেন। কর্মীদের পাশাপাশি আমাদের জন্যও নিশ্চয়ই বিশেষ কোনো বার্তা দেবেন। অন্যদিকে, এই হাইভোল্টেজ সভা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী অনুপ সাহা। তাঁর সাফ কথা, তৃণমূল সুপ্রিমো দিবাস্বপ্ন দেখছেন। মানুষ শুধু দুবরাজপুরেই নয়, এবার গোটা বাংলা থেকেই তৃণমূলকে বিসর্জন দেবে। সব মিলিয়ে, গোষ্ঠডাঙা মাঠের আজকের সভা কি পারবে দুবরাজপুরে ফের ঘাসফুল ফোটাতে? উত্তরে মিলবে আগামী ৪ মে।