নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিকরা পুজোর ছুটির পরেই ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। আদিবাসী পরিবারের সদস্যরা কাজের সন্ধানে সকালে বেরিয়ে যাচ্ছেন। ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণে জেলা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করছেন। বিএলওদের সুবিধার্থে পরিযায়ী শ্রমিক ও লোধা শবরদের বাড়িগুলিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের নির্দেশ বুথস্তরের তৃণমূল নেতাকর্মীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
ঝাড়গ্রাম জেলায় সাড়ে ন’ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। তারমধ্যে ৩০ শতাংশ আদিবাসী। বিনপুর ও নয়াগ্ৰাম তপশিলী উপজাতি সংরক্ষিত কেন্দ্র। তপশিলী আদিবাসী যুবকদের বড় অংশ দেশের নানা প্রান্ত কাজ করেন। মাওবাদী অস্থিরতার সময়ে তাঁরা জেলা ছেড়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন। বিনপুর ২ ব্লকের দিনমজুর খাটা নারী-পুরুষরা প্রতিদিন ঝাড়খণ্ডে কাজ করতে যান। লোধা শবর পরিবারের সদস্যরা কাজের সন্ধানে সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আবার রাতে বাড়ি ফেরেন। ব্লক লেভেল অফিসারদের ফর্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব বিষয়টি মাথায় রেখে একাধিক পদক্ষেপ করেছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বাড়িগুলিকে আগাম চিহ্নিত করা হচ্ছে। লোধা শবরদের নির্দিষ্ট দিনে বাড়িতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বুথ স্তরের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রাম ব্লকের ঘৃতখাম গ্ৰামের বাসিন্দা কৃষ্ণা মিদ্দা বলেন, বাড়ি থেকে কিছুদিন আগেই মহারাষ্ট্রে এসেছি। ফর্ম ফিল আপের জন্য বাড়ি ফিরতে হবে কি না, বুঝতে পারছি না। অন লাইনে ফর্ম ফিলাপ করা যাবে কি না, তাও জানি না। উদ্বেগে পড়ে গিয়েছি। বিনপুর-২ ব্লকের বেলপাহাড়ীর বাসিন্দা শুভম মাহাত বলেন, ছুটির পর গুজরাতে চলে এসেছি। বাড়িতে বয়স্ক বাবা ও মা রয়েছেন। ভোটার তালিকার কাগজ ও অন্যান্য ডকুমেন্ট বাড়িতেই রয়েছে। ফর্ম ফিল আপ করার জন্য বাড়ি ফিরতে হবে কি না জানি না। কিন্তু এখন বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়। ফর্ম ফিল আপ নিয়ে আগে জানা থাকলে ভালো হতো। গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি হেমন্ত ঘোষ বলেন, ব্লকের ৭টি অঞ্চলে হেল্প ডেস্ক করা হয়েছে। যাঁরা আসছেন, তাঁদের সবরকম সহযোগিতা করা হচ্ছে। যেসব পরিযায়ী শ্রমিকরা বাইরের রাজ্যে চলে গিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কাগজপত্রের কোনও জটিলতা আছে কি না, জিজ্ঞেস করা হচ্ছে। বিনপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশচন্দ্র সর্দার বলেন, আমাদের এই এলাকা আদিবাসী অধ্যুষিত। ব্লকের পরিযায়ী শ্রমিক ও লোধা শবরদের বাড়িগুলিকে আমরা আগাম চিহ্নিত করছি। বিএলও অফিসাররা যেদিন গ্ৰামে আসবেন, লোধা শবররা সেদিন যাতে বাড়িতে থাকেন সেটাও প্রচার করা হচ্ছে। ঝাড়গ্রামে বিএলওর দায়িত্ব থাকা উত্তম বারিক বলেন, বাড়ি বাড়ি ফর্ম দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। পরিযায়ী যেসব শ্রমিকরা বাইরে আছেন, তাঁরা অন লাইনে ফর্ম ফিলাপ করতে পারবেন। আবা ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা জেরক্স কপি বাড়ি থাকলে বাবা মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের দ্বারা ফর্ম ফিল আপ করা যাবে। যদি ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকে, সেক্ষেত্রে বাবা মা ও দাদু দিদার ভোটার তালিকায় থাকা নামের জেরক্স কপি দিয়ে ফর্ম ফিল আপ করা যাবে। পরিযায়ী শ্রমিকরা পরিবার নিয়ে বাইরে চলে গেলে বিএলও অফিসারদের হোয়াটসঅ্যাপ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকা নামের তালিকার জেরক্স পাঠালে ফর্ম পূরণ হয়ে যাবে।