Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলার ৮ আসনে পুরনো মুখেই আস্থা তৃণমূলের

অবশেষে মঙ্গলবার বিকালে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। বীরভূম জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ১০টিতেই গতবার ঘাসফুল ফুটেছিল।

জেলার ৮ আসনে পুরনো মুখেই আস্থা তৃণমূলের
  • ১৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: অবশেষে মঙ্গলবার বিকালে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। বীরভূম জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ১০টিতেই গতবার ঘাসফুল ফুটেছিল। এবার আটটি আসনে পুরোনো মুখের উপরই আস্থা রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে চমক রয়েছে সিউড়ি ও হাসন কেন্দ্রে। সিউড়িতে বিকাশ রায়চৌধুরীর বদলে টিকিট দেওয়া হয়েছে পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে। হাসনে বিদায়ী বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখকে। অন্যদিকে, গতবার হাতছাড়া হওয়া জেলার একমাত্র আসন দুবরাজপুর পুনরুদ্ধারে ফের নরেশ বাউড়ির উপরই ভরসা রাখল দল।

Advertisement

সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই উজ্জ্বলের সক্রিয়তা যে ইঙ্গিত দিচ্ছিল এদিনের ঘোষণায় তাতেই চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ল। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই নিজের গতিবিধি বাড়িয়েছিলেন উজ্জ্বল। শহরের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে বৈঠক থেকে শুরু করে গ্রামে গ্রামে গিয়ে দলের হয়ে প্রচার, এতেই তাঁর প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত মিলছিল। দল তাঁকে টিকিট দিয়ে সেই জল্পনায় সিলমোহর দিল। মঙ্গলবার বিকেলে সিউড়ির প্রার্থী হিসেবে উজ্জ্বলের নাম ঘোষণা হতেই জেলা পার্টি অফিসের সামনে সবুজ আবির খেলায় মেতে ওঠেন তৃণমূল কর্মীরা। বাজিও ফাটানো হয়। ‘ভূমিপুত্র’ উজ্জ্বল বলেন, মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে যে বড় দায়িত্ব দিয়েছেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। তবে, গত একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ‘টাফ ফাইটে’ দলকে জিতিয়েছিলেন বিকাশ রায়চৌধুরী। তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় ক্ষোভ রয়ে গিয়েছে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। যদিও বিকাশবাবু একে রাজ্য নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত হিসেবেই মেনে নিয়েছেন। 
হাসন বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের জল্পনা ছিল। ওই কেন্দ্রে বিধায়কের সঙ্গে রামপুরহাট-২ ব্লক সভাপতির বিবাদ দলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গোষ্ঠীকোন্দল মেটাতে এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখতে শেষমেশ বর্তমান বিধায়ককে সরিয়ে কাজল শেখকে সামনে আনা বড় রাজনৈতিক চাল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রার্থী ঘোষণার পরেই কাজল চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে জানান, লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জিতে বিরোধীদের জামানত জব্দ করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। এছাড়াও গতবার পরাজিত হওয়া দুবরাজপুর কেন্দ্রে প্রাক্তন বিধায়ক নরেশ বাউড়ির প্রত্যাবর্তনে বাড়তি অক্সিজেন পেয়েছে স্থানীয় নেতৃত্ব।
বাকি আটটি কেন্দ্রে অবশ্য রদবদলের পথে হাঁটেনি দল। বোলপুরে চন্দ্রনাথ সিংহ, লাভপুরে অভিজিৎ সিংহ, নানুরে বিধানচন্দ্র মাঝি এবং সাঁইথিয়ায় নীলাবতী সাহার উপরই পুনরায় ভরসা রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে ময়ূরেশ্বরে অভিজিৎ রায়, রামপুরহাটে প্রবীণ নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, নলহাটিতে রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিংহ এবং মুরারইয়ে মোশারফ হোসেনকেই প্রার্থী করা হয়েছে। তালিকা ঘোষণার পর মুহূর্তেই লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহকে নিজে হাতে দেওয়ালে নাম লিখে প্রচারের সূচনা করেন। এদিন থেকেই প্রচারে নেমে পড়ল ঘাসফুল শিবির। বুধবার থেকে জোরকদমে ময়দানে নামছেন প্রার্থীরা। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে একজোট হয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ