Bartaman Logo
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৬ কিমি সরে এসেছে গঙ্গা, বিপদের শঙ্কা, বাঁধ দিয়ে বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব নয়, বলছেন নদী বিশেষজ্ঞরা

চার দশক আগে যেখান দিয়ে প্রবাহিত হত গঙ্গা, সেই জায়গা ছেড়ে বাঁদিকে ৬ কিমি ঢুকে পড়েছে নদী

৬ কিমি সরে এসেছে গঙ্গা, বিপদের শঙ্কা, বাঁধ দিয়ে বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব নয়, বলছেন নদী বিশেষজ্ঞরা
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, মালদহ: চার দশক আগে যেখান দিয়ে প্রবাহিত হত গঙ্গা, সেই জায়গা ছেড়ে বাঁদিকে ৬ কিমি ঢুকে পড়েছে নদী। আর এরই জেরে বারবার বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে মালদহের মানিকচকের ভুতনির বাসিন্দাদের। সামনে ফরাক্কা ব্যারেজ। ডানদিকে রাজমহল পাহাড়ের পাথুরে জমি। ফলে জল বাড়লে বাঁদিকে সরে আসছে গঙ্গা। গ্রাস করছে জমি-বাড়ি। বর্তমানে পরিস্থিতি যেখানে পৌঁছেছে, গঙ্গাকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে দিতে না পারলে ভুতনি ও কাটাদিয়ারাকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করা সম্ভব নয়। এমনটাই মনে করছেন সেচদপ্তরের আধিকারিকরা। যদিও স্পার করে কিংবা বাঁধ দিয়ে গঙ্গাকে বেঁধে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্র। সেক্ষেত্রে যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, ভুতনির ভবিষ্যৎ যে অনিশ্চিত তা মানছেন তিনি। 

Advertisement

এদিকে, গঙ্গা ধেয়ে আসায় আরও এক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন নদী বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সেচদপ্তরের কর্তারা। গঙ্গা ও ফুলহারের মধ্যে ক্রমেই দূরত্ব কমছে। বর্তমানে দুই নদীর মধ্যে দূরত্ব মাত্র কয়েকশো মিটার। এতেই অদূর ভবিষ্যতে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা ঘনাচ্ছে। শঙ্কার কারণ, গঙ্গা যেভাবে এগিয়ে আসছে,তাতে যদি ফুলহারের সঙ্গে কোনোদিন মিশে যায়, সেক্ষেত্রে বিশাল জলরাশি কালিন্দী ও মহানন্দা নদীর উপর চাপ বাড়াবে। এক্ষেত্রে মোটেই সুরক্ষিত থাকবে না মালদহ শহর। শুধু তাই নয়, গঙ্গা ও ফুলহারের জল আছড়ে পড়বে পাগলা নদীর উপর। সেক্ষেত্রে ফরাক্কার টাউনে ঘটতে পারে 
ভয়াবহ বিপর্যয়।
সেচদপ্তরের এক কর্তা বলেন, বিহার থেকে বেরনোর পর গঙ্গা ক্রমশ বাঁদিকে সরে আসছে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, ১৯৭৫ সালে যেখান দিয়ে গঙ্গা প্রবাহিত হত, আর এখন যেখান দিয়ে নদী বইছে, তাতে ৬ কিমি এগিয়ে এসেছে গঙ্গা। এই পরিস্থিতিতে ভুতনিকে বাঁচাতে বিহারের মধ্যে অন্তত তিনটি স্পার তৈরি করতে হবে। সেইসঙ্গে ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গে নদীচরের পলি কেটে নতুন চ্যানেল তৈরি করতে হবে, যাতে গঙ্গাকে কিছুটা হলেও আগের জায়গায় ফেরানো যায়। তাঁর দাবি, আগ্রাসী গঙ্গা ক্রমাগত ধাক্কা মারতে থাকায় নীচ থেকে মাটি ক্ষয়ে যাচ্ছে। তৈরি হচ্ছে গহ্বর। ফলে বাঁধ বসে যাচ্ছে। কখনও বা ভাঙছে। 
নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্র বলেন, ফরাক্কা ব্যারেজের কারণে গঙ্গার স্বাভাবিক প্রবাহমানতা কিছুটা হলেও বাধাপ্রাপ্ত। বেশি জল ধারণ করতে নদীর জায়গা দরকার। বাঁধ দিয়ে ভুতনিকে বাঁচানো যাবে না। এর আগে একাধিক কমিটির রিপোর্টে সুপারিশ করা হয়েছে, রাজমহল, মানিকচক ও ফরাক্কার মাঝে স্পার দিয়ে গঙ্গাকে মেইন চ্যানেলে যদি ফেরানো যায়। কিন্তু কয়েকটা স্পার দিয়ে গঙ্গাকে এভাবে বেঁধে রাখা সম্ভব নয় বলে আমার মনে হয়।
সেচদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু বলেন, তৃণমূল সরকার যেভাবে বাঁধের কাজ করেছে, আমরা তা করব না। জল নামলে স্থায়ী কাজ শুরু হবে। ভুতনিকে রক্ষা করতে ৩৬০০ কোটি টাকার বাজেট ধরা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে কাজ হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ