নন ম্যাট্রিক, প্রয়োজন নেই নিটে পাশও কড়ি ফেললেই এমবিবিএস ডিগ্রি!
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নিট পরীক্ষা দেওয়ার বালাই নেই। মাধ্যমিক পাশ না করলেও হবে। পকেটে শুধু থাকতে হবে নগদ ৫৫ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা। তা হলেই কেল্লাফতে। আপনিও পেয়ে যাবেন ঝকঝকে এমবিবিএস ডিগ্রি! হাতেনাতে মিলে যাবে রেজিস্টেশন নম্বরও। স্বাস্থ্যদপ্তর যতই হম্বিতম্বি করুক না কেন কেশাগ্র স্পর্শ করার ক্ষমতা হবে না কারও। 

Advertisement

নবাবহাটের এক নার্সিংহোমে চার বছরের শিশুর মৃত্যুতে তোলপাড় হয় গোটা বর্ধমান শহর। তার মধ্যেই ভুয়ো চিকিৎসক তৈরির এমনই এক চক্র সক্রিয় বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। চক্রটি টাকার বিনিময়ে যে কাউকেই  ডাক্তারি প্র্যাকটিস করার রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিচ্ছে। প্রমাণ হিসেবে সামনে আনছে এক কম্পাউডারকে। যিনি পূর্ণ ডাক্তারে রূপান্তরিত হয়েছেন। তাঁর নথিপত্র দেখিয়ে নতুন শিকার ধরছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই  তাজ্জব চিকিৎসক মহল। রোগীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে শিউরে উঠছেন সকলেই। ফাইমোসিসের সামান্য অপরাশেন। সেটা করার পরই নবাবহাটের ওই শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সাইদুল হক নামে এক চিকিৎসক অপারেশন করেছিলেন। অ্যানাস্থেসিস্ট ছিলেন বনোজ কুমার দে। যদিও চিকিৎসকদের দাবি তাঁরা সফল অপারেশনই করেছিলেন। ওই ঘটনার পরই ভুয়ো ডাক্তারের বিষয়টি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে।
কীভাবে চলছে এই চক্র? স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন নার্সিংহোমের ওয়ার্ডবয় বা কম্পাউন্ডারদের রেজিস্ট্রেশন পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেওয়া হচ্ছে। চক্রের নেটওয়ার্ক বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। পুরানো রেজিস্ট্রেশন নম্বরও নিজেদের নামে ব্যবহার করছে। শহরের একজন স্বঘোষিত চিকিৎসক এমন টোপ দিচ্ছে। খোসবাগানের নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, যিনি টোপ দিচ্ছেন তাঁরও ডাক্তারি সার্টিফিকেট নিয়ে সংশয় রয়েছে। তিনি কবে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করেছেন, কোন কলেজ থেকে ডাক্তারি পড়েছেন, কতদিন সেখানে ক্লাস করেছেন, এ সমস্ত বিষয়গুলি নিয়ে তথ্য জোগাড় করলেই পর্দা ফাঁস হয়ে যাবে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্তর জন্য ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যদপ্তরে চিঠি করেছি। সিন্ডিকেটের যিনি মূল পাণ্ডা তিনিও নিজেকে চিকিৎসক বলে পরিচয় দেন। তাঁর সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জোগাড় চলছে। যাঁরা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন তাঁদের ছাড়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিন আগে নবাবহাটে ১০৮ শিবমন্দিরের কাছে যে ঘটনা হয়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য। ফাইমোসিস অপারেশন করতে গিয়ে চার বছরের শিশুটিকে যাঁরা মেরে ফেলেছেন, তাঁদের কঠোর শাস্তি পেতেই হবে।’ মৃত শিশুর মা শিল্পা পাল বলেন, ‘আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক এটা আমি চাই না। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছে। আমরা কয়েক দিন অপেক্ষা করব। তারপরও কিছু না হলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বিচার চাইব।’ মঙ্গলবার চিকিৎসা করাতে আসা বহু রোগীর আত্মীয়রা বলছেন, বর্ধমানে অনেক ভুয়ো ডাক্তার রয়েছেন। ডিগ্রি দেখে বোঝার জো নেই। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়ানক হয়ে উঠবে। টাকার বিনিময়ে ডাক্তারি সার্টিফিকেট যারা জোগাড় করে দিচ্ছেন, তাঁদেরও কড়া শাস্তি হওয়া দরকার।