সংবাদদাতা, খড়্গপুর: সিপিএমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা ছিলেন। তাঁর ভয়ে এলাকার বাঘে-গোরুতে একঘাটে জল খেত। পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে অঞ্চল সভাপতিও হন। সবংয়ের চাউলকুড়ি অঞ্চলের সেই দাপুটে তৃণমূল নেতা জয়দেব পালকে সমবায়ের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অপরাধে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল মেদিনীপুর জেলা আদালত। ২০১৩ সালের মামলায় বুধবারই জয়দেবকে দোষী সাব্যস্ত করে হেপাজতে নিয়েছিল মেদিনীপুর আদালত। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাজা ঘোষণা করেন সিজেএম আদালতের বিচারক অতনু মণ্ডল। পাঁচ বছরের জেল ছাড়াও ১ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন বিচারক। অনাদায়ে আরও ১০ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, চাউলকুড়ি সুন্দরপুর সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন তৎকালীন সিপিএম নেতা জয়দেব পাল। ২০১৩ সাল নাগাদ তৃণমূলে যোগ দেন জয়দেব। ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর বিরুদ্ধে সমবায়ের ৪লক্ষ ৬০হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জয়দেবের বাড়ি থেকে সমবায়ের আরও কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পান। জয়দেবকে গ্রেপ্তারও করা হয়। তৎকালীন শাসকদলের সৌজন্যে মাস দু’য়েক পরে জামিনও পেয়ে যান জয়দেব। অভিযোগ, জেল থেকে বেরিয়েই সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন জয়দেব। ফলে মামলাও গতি হারায়। জয়দেবের প্রভাবও বাড়তে শুরু করে তৃণমূলে। একসময় তিনি চাউলকুড়ি অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতিও হন। বিজেপি নেতা অমূল্য মাইতির দাবি, মানস ভুঁইয়ার আশীর্বাদেই অঞ্চল সভাপতি হয়েছিলেন দুর্নীতিগ্রস্ত জয়দেব। যদিও মানস ভুঁইয়ার ঘনিষ্ঠ নেতাদের দাবি, জয়দেব পালের সঙ্গে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া অমূল্যবাবু, অমলবাবুদের অনেক বেশি সুসম্পর্ক ছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই জয়দেবকেই দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিল মেদিনীপুর জেলা আদালত। খুশি এলাকার মানুষ। সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব এবং পৌলমী কলাবেরা জানিয়েছেন, সবমিলিয়ে তিনি প্রায় ২৯ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আমরা সেই প্রমাণ তুলে ধরেছি। প্রায় ৩০ জন ব্যক্তি সাক্ষ্য দিয়েছেন। জয়দেববাবুর আইনজীবী বলেন, তাঁরা জেলা আদালতের সেশন কোর্টে অ্যাপিল করবেন। পরিবারের দাবি, জয়দেববাবুকে ফাঁসানো হয়েছে।



