নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: শিল্পদপ্তরের প্রধান সচিব বন্দনা যাদব, শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র সহ শিল্প দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের নিয়ে দুর্গাপুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। স্টিল সিটি দুর্গাপুরে এসেই শিল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাপসবাবু। তিনি বলেন, ‘শিল্পের খরা কাটানোই আমাদের সরকারের মিশন, ভিশন, টার্গেট। শিল্পের খরা না কাটলে রাজ্য এগবে না। কাজের সন্ধানে বাইরে যাওয়া ছেলেদের বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। এখানে কাজ দিতে হবে। শিল্পাঞ্চলে আগে আসানসোল উৎসব, দুর্গাপুর উৎসব হয়েছে। কিন্তু শিল্পের উৎসব হয়নি। এবার সেটা হবে।
দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগী ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হোটেলে বৈঠক হয়। শিল্পক্ষেত্রের বিকাশে পূর্তদপ্তরের বড় ভূমিকা থাকে। গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী অজয় পোদ্দারও। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যেমন কথা হয়েছে তেমনি নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়েও চর্চা হয়েছে। জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে ছোট বড় মিলিয়ে ৪০টি নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। সেখানে যেমন নতুন বেসরকারি হাসপাতাল গড়ার প্রস্তাব রয়েছে, তেমনি ছোট বড় ফ্যাক্টরি গড়া, ফ্যাক্টরি সম্প্রসারণের কথা হয়েছে। মন্ত্রীদের উপস্থিতিতেই ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা আপনাদের সবরকম সহযোগিতা করব। কিন্তু আপনাদেরও যোগ্যতা অনুযায়ী স্থানীয়দের কাজে অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্কিল লেবার আইটিআইগুলি থেকে নিন। এখানে পাশ্ববর্তী অনেকগুলি আইটিআই রয়েছে। এছাড়া কারখানার দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়ম মেনে দূষণরোধী মেশিন চালাতে হবে। সিএসআর প্রজেক্টে এলাকার শিক্ষা স্বাস্থ্যর উন্নতি করতে হবে। না হলে আন্দোলন হবে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, সরকারকে আপনারা নিজেদের পার্টনার মনে করবেন। পরিকাঠামো উন্নয়নে কাজের অগ্রগতিতে সব সময়ে আমাদের পাশে পাবেন।
দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে হাজার হাজার বিঘা জমি নষ্ট হচ্ছে বন্ধ কারখানাগুলিতে। সেগুলি কর্মসংস্থান দিচ্ছে না, উলটে শহরবাসীর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এই কারখানার জমিতে নতুন শিল্প আনার দাবি শহরবাসীর দীর্ঘদিনের। এই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে স্থানীয় বিধায়ক জানিয়েছেন। জানা গিয়েছে, কারখানা গড়ার জন্য সরকার জমি দিয়েছিল। সেই সব জমিতে বহু বছর ধরে কারখানা বন্ধ হয়ে পড়ে থাকলে তা সরকার ফিরিয়ে নেবে। সেখানে নতুন শিল্পদ্যোগী বা কোন সংস্থা নিজেদের ফ্যাক্টরি সম্প্রসারণ করতে চাইলে তা দেওয়া হবে। • নিজস্ব চিত্র