Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিনপুরে ১১টি নলকূপ উঠিয়ে বিক্রি, অভিযুক্ত তৃণমূল প্রধান

বিনপুরে ১১টি নলকূপ উঠিয়ে বিক্রি, অভিযুক্ত তৃণমূল প্রধান
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম জেলার হাড়দা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান সুপর্ণা মুর্মুর বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে টিউবওয়েল তুলে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত শুরু করেছে ব্লক প্রশাসন। চৈত্রেই ভূগর্ভস্থ জলস্তর তলানিতে নামায় হাড়দা পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে। প্রধান সুপর্ণা মুর্মু সেগুলো না সারিয়ে তুলে ফেলার অনুমোদন দিয়েছিলেন। তাই পঞ্চায়েতের একাধিক সদস্য প্রধানের বিরুদ্ধে টিউবওয়েল তুলে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। বিনপুর-২ ব্লকের বিডিও সুমন ঘোষ বলেন, হাড়দা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের একাধিক সদস্যের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। 

Advertisement

গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৫ তারিখে সরকারি প্যাডে প্রশান্ত বেরা নামে এক ব্যক্তিকে পঞ্চায়েত এলাকার অকেজো টিউবওয়েলগুলি তুলে ফেলার অনুমোদন দেন প্রধান। ১১ টিউবওয়েল তুলেও ফেলা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিনটি টিউবওয়েল থেকে জল পড়া হওয়া সত্ত্বেও সেগুলি তুলে ফেলা হয়। একাধিক সদস্যের অভিযোগ, টিউবওয়েল তোলার বিষয়ে  পঞ্চায়েতে কোনও আলোচনা হয়নি। রেজোলিউশন পাশ হয়নি। টিউবওয়েলগুলো তুলে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত সদস্য চূড়ামণি হাঁসদা বলেন, পঞ্চায়েত প্রধান এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনও কথা বলেন না প্রধান। এই গরমের সময় ১১টি টিউবওয়েল না সারিয়ে তুলে ফেলা হল। তিনটে টিউবওয়েল থেকে জল বেরচ্ছিল। সেগুলো পর্যন্ত তুলে ফেলা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করতে গেলে কিছু নিয়ম মানতে হয়। সেইসব কিছুই মানা হয়নি। এলাকার মানুষ আমাদের প্রশ্ন করছেন। পঞ্চায়েতের তিন নম্বর সংসদের সদস্য সোমা ঘোষ বলেন, আমার এলাকা থেকে একটি টিউবওয়েল তুলে নেওয়ার কথা পরে জানতে পারি। এই নিয়ে আগে কিছু জানানো হয়নি। টিউবওয়েল থেকে জল বের হতো কি না আমার জানা নেই। পঞ্চায়েত প্রধান সুপর্ণা মুর্মু বলেন, অনুমোদন দিয়েছিলাম। কিন্ত টিউবওয়েল তোলার পর কী হয়েছে সেই বিষয়ে কিছু জানি না। দলের স্থানীয় নেতারাই সেটা বলতে পারবেন। পঞ্চায়েতের এক সদস্য বলেন, টিউবওয়েলগুলি তুলে পঞ্চায়েত ভবনের সামনে এনে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই রাতারাতি সেগুলো উধাও হয়ে যায়। পঞ্চায়েতের কাজকর্মে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নিয়মমাফিক কাজকর্ম হচ্ছে কি না, তা দেখার কেউ নেই। পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে দলের মাদার ও যুব গোষ্ঠীর দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চলছে। উন্নয়নমূলক সব কাজকর্ম থমকে গিয়েছে। জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি প্রসূন ষড়ঙ্গি বলেন, পঞ্চায়েতটি আগে বিজেপির দখলে ছিল। স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেই তৃণমূল পঞ্চায়েতটি দখল করে। প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পেয়েছি। দলের তরফেও খতিয়ে দেখা হবে।  প্রতীকী চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ