নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের সর্বস্তরের কর্মীর মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে চাইছে তৃণমূল। সেই লক্ষ্যে এবার জেলা, ব্লক, অঞ্চল স্তর পর্যন্ত বিজয়া সম্মিলনির আয়োজন করা হচ্ছে। ৫০ জনের বেশি বক্তা যাবেন জেলায় জেলায়। দলের কর্মী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মত বিনিময় করবেন। তুলে ধরবেন দলের বক্তব্য।
রাজ্যে নির্বিঘ্নে মিটেছে দুর্গোৎসব। সামনে দীপাবলি, কালীপুজো সহ কয়েকটি উৎসব থাকলেও এখন থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাড়তি নজর দিতে চলেছে তৃণমূল। সেই কথা মাথায় রেখে বিজয়া সম্মিলনির আয়োজন করা হচ্ছে। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলাস্তর ছাড়াও ব্লক, টাউন, অঞ্চল স্তরে হবে বিজয়ার শুভেচ্ছা জ্ঞাপন পর্ব। বিজয়া সম্মিলনিগুলিতে এলাকার সমস্ত তৃণমূল নেতা-কর্মীকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রবীণ তৃণমূল কর্মী এবং প্রথম দিন থেকে দলের সঙ্গে থাকা সক্রিয় নেতা ও সদস্যদের বিশেষভাবে সম্মান জ্ঞাপন করা হবে। এছাড়াও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যাঁরা তৃণমূলের প্রতি আস্থাজ্ঞাপন করেন, তাঁদেরও দলের তরফে সংবর্ধিত করার পরিকল্পনা হয়েছে। বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। তাই সংগঠনের যেটুকু ফাঁকফোকর রয়েছে, দ্রুত ভরাট করতে চাইছে তৃণমূল। দলের সমস্ত নেতা-কর্মী যাতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমে পড়েন, সেই বার্তাই উঠে আসবে বিজয়া সম্মিলনি থেকে। দলের কারও বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করা, অসন্তোষ প্রকাশ না করা, দলকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়, এমন মন্তব্য না করার মতো বিষয়গুলি নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলে তা যাতে দলের অভ্যন্তরেই জানানো হয়, বিরোধীদের প্রচারের অস্ত্র যেন তুলে না দেওয়া হয়—সে ব্যাপারে বিশেষ নজর থাকবে বলে খবর। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, ২৬-এর নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি নানাভাবে বাংলাকে অপমানিত এবং অপদস্থ করে চলেছে। ফলে ভোটের মাধ্যমে বিজেপিকে যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য এটাই প্রকৃত সময়। সেই কারণে এবারের বিজয়া সম্মিলনিগুলিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযয়ের সরকারের উন্নয়ন মডেলই যে ভোটযুদ্ধে জোড়াফুল শিবিরের প্রধান হাতিয়ার, সেই বার্তাও দেওয়া হবে দলের কর্মী-সমর্থকদের।
বর্তমান রজিনৈতিক প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলা ও বাঙালির স্বার্থ সংক্রান্ত বিষয়ে। রাজ্যের শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, একদিকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বাংলার ন্যায্য প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না। বাংলার সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে। অন্যদিকে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলায় কথা বলার জন্য হেনস্তা করা হচ্ছে। এই দু’টি বিষয়ই রাজ্যের মানুষের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে ঠিক করেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।