Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অ্যাপে নয়, বুথেই চাটাই পেতে সংগঠন করার নির্দেশ তৃণমূলের

অ্যাপে নয়, বুথেই চাটাই পেতে সংগঠন করার নির্দেশ তৃণমূলের
  • ৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: তৃণমূলের বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার যৌথ বৈঠকে কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিল ঘাসফুল নেতৃত্ব। শনিবার বাঁকুড়া শহরের রবীন্দ্র ভবনে ওই বৈঠকে জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও নেতানেত্রীরা যোগ দেন। সেখানে দুই সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজ্য তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী মলয় ঘটক উপস্থিত ছিলেন। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মন্ত্রী দলের কর্মীদের দ্বন্দ্ব ভুলে একজোট হয়ে লড়াই করার বার্তা দেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশমতো বুথস্তরে ভোটার তালিকা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার কথাও বলেন। ‘অ্যাপ নির্ভরতা’ কাটিয়ে বুথে বুথে চাটাই পেতে সংগঠন করতে হবে, এদিনের বৈঠক থেকে শাসকদলের নেতৃত্ব কর্মীদের এমনই বার্তা দিয়েছে। যদিও বৈঠক শেষে মলয়বাবু সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Advertisement

শাসকদলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, মান-অভিমান ভুলে কর্মীদের নিয়ে লড়াই করতে হবে। বসে যাওয়া নেতাদের ফের দলমুখী করার কথাও বলা হয়েছে। বুথে বুথে চাটাই পেতে সংগঠন মজবুত করতে হবে। সবাইকে নিয়ে কাজ করলে ভোটে যে ভালো ফল পাওয়া যায়, তা গত লোকসভা ও তালডাংরা বিধানসভার উপনির্বাচনে আমরা দেখতে পেয়েছি। সেই ধারা আগামী বিধানসভা ভোটেও বজায় রাখতে হবে। এই লড়াই অনেক কঠিন হতে চলেছে। তাই সবাইকে একজোট হতে হবে।
শাসকদলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান তথা বড়জোড়ার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় বলেন, নেতাকর্মীদের ভোটার তালিকা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। ভোটে জেতার পর অনেকেই প্রতিশ্রুতি পালন করেন না। কেউ কেউ আবার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগও রাখেন না। ফলে দলের নিচুতলার কর্মী ও মানুষ ক্ষুণ্ণ হন। তাই সবাইকে জনসংযোগে জোর দিতে বলেছি।
অন্য জেলার মতো বাঁকুড়ায় তৃণমূলের মধ্যে কোন্দল রয়েছে। মাঝেমধ্যেই ব্লক ও শহরের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। কেউ কেউ অন্য দলের হয়ে কাজ করেন বলেও অভিযোগ। ফলে আখেরে দলেরই ক্ষতি হয়। ঘাসফুলের ভোট ম্যানেজারদের আশঙ্কা, এভাবে চললে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধীরা সুযোগ নিতে পারে। সেকারণে মন্ত্রী মলয় ঘটককে জেলায় পাঠিয়ে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব নেতাকর্মীদের একজোট করার চেষ্টা করছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে এজেলায় তৃণমূলের ফল খারাপ হয়েছিল। জঙ্গলমহলের বিধানসভা কেন্দ্রগুলি মুখরক্ষা না করলে লাল মাটির জেলায় শাসকদল আরও তলানিতে চলে যেত। তবে গত পাঁচবছরে গন্ধেশ্বরী-দ্বারকেশ্বর-কংসাবতী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। এর মধ্যে তৃণমূলের সংগঠনও অনেক চাঙ্গা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ