Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামমন্দির সংস্কারে ৯ লক্ষ বরাদ্দ তৃণমূল বিধায়কের, পুরসভার ভোটের জন্যই রামভক্তি, কটাক্ষ বিজেপির

রামমন্দির সংস্কারে ৯ লক্ষ বরাদ্দ তৃণমূল বিধায়কের, পুরসভার ভোটের জন্যই রামভক্তি, কটাক্ষ বিজেপির
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: একদিকে রামনবমী নিয়ে বিজেপি যখন রাজনীতির ময়দান গরম করতে ব্যস্ত, তখনই শান্তিপুরে তিনশত বছরের প্রাচীন রামমন্দির সংস্কারে হাত লাগিয়ে পাল্টা চাল দিল তৃণমূল। বিধায়ক তহবিলের অর্থ এবং পুরসভার বরাদ্দ মিলিয়ে প্রায় ৯ লক্ষ টাকায় সাজিয়ে তোলা হচ্ছে শান্তিপুরের রঘুনাথ জিউর মন্দির। অর্থাৎ বিজেপির অস্ত্রেই বিজেপিকে ঘায়েল করার চেষ্টা। স্বভাবতই তৃণমূলের এই প্রচেষ্টাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। 

Advertisement

স্থানীয় ইতিহাস বলছে, শান্তিপুর পুর এলাকার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সূত্রাগড় ছুতোরপাড়ার রঘুনাথ জিউর মন্দির বা রামমন্দির প্রায় তিন শতাব্দী প্রাচীন। একসময় স্থানীয় মোদক সম্প্রদায়ের হাত ধরে ভগবান রাম রঘুনাথ রূপে প্রতিষ্ঠা পান এই মন্দিরে। তৃণমূলের অভিযোগ, রামের নামে রাজনীতি করেও শান্তিপুরের প্রাচীন এই মন্দির নিয়ে উদাসীন বিজেপি। রানাঘাটে বিজেপি দু’ বার লোকসভা ভোটে জিতলেও এই মন্দিরের উন্নয়ন নিয়ে কোনও আগ্রহ দেখায়নি। 
রামের নামে কেবল ভোটভিক্ষাই তাদের লক্ষ্য। তাই শান্তিপুরের তিন শতাব্দী প্রাচীন রামমন্দিরের ঢালাও উন্নয়ন করেই গেরুয়া বাহিনীকে কুপোকাত করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামীর তহবিল থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে রঘুনাথ জিউর নাটমন্দিরের ছাউনি। ইতিমধ্যেই সেই কাজ শেষের পথে। বুধবার বিধায়ক এবং স্থানীয় কাউন্সিলার তথা শান্তিপুর পুরসভার ‘চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল’ সদস্য শুভজিৎ দে সেই কাজ পরিদর্শনে আসেন। এছাড়া রঘুনাথ জিউ মন্দিরের সংস্কারে প্রায় ছ’ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করছে পুরসভাও। গোটা মন্দির চত্বরে পেভার ব্লক বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে ওই টাকায়। পরিদর্শনের পর বিধায়ক বলেন, এখানে দু’ বারের সাংসদ বিজেপির। তা সত্ত্বেও শান্তিপুরের কোনও মন্দিরের উন্নয়নে উদ্যোগী হয়নি বিজেপি। এমনকী যে রাম নিয়ে তারা রাজনীতি করে, শান্তিপুরে সেই রামমন্দির নিয়েও তারা উদাসীন। স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে আমরা এই মন্দিরের ঐতিহ্য বুঝি। তাই মন্দির কমিটির আবেদনে সেটির সংস্কারে হাত লাগিয়েছি। চার বছর বিধায়ক হিসেবে আমি একাধিক মন্দিরের উন্নয়ন করেছি। আমরা ধর্মের প্রতি দায়বদ্ধতা, ভালোবাসা এবং নিষ্ঠা থেকে কাজ করি, আর বিজেপি রাজনীতি করে। 
কাউন্সিলার শুভজিৎ দে বলেন, আমাদের বিধায়ক নাটমন্দিরের ‘শেড’ তৈরি করে দিচ্ছেন। পুরসভার পক্ষ থেকে আমরাও বড় অঙ্কের বরাদ্দ রেখেছি। তবে কেবলমাত্র রামমন্দির নয়, শান্তিপুরের বিভিন্ন মন্দিরের উন্নয়ন করছি আমরা। পাল্টা বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, তৃণমূল এখন আতঙ্কিত। এতদিন বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে তোষণ করেই চলত তাদের রাজনীতি। যখন হিন্দু ভোট একত্রিত হচ্ছে তখন রামকে হাতিয়ার করে রাজনীতির ময়দানে ভেসে থাকতে চাইছে তৃণমূল। চার বছর ধরে শান্তিপুরের রামমন্দিরের কথা বিধায়কের মনে পড়েনি। যেহেতু আগামী বছর বিধানসভা ভোট, তাই শান্তিপুরের হিন্দু ভোট টানতে রামের নামে রাজনীতি করছে তৃণমূল। সাধারণ মানুষ নিশ্চয়ই এর উত্তর দেবেন। 
যদিও রঘুনাথ জিউ মন্দির কমিটির সম্পাদক মোহনলাল নন্দী বলেন, বিধায়কের কাছে আমরা আবেদন করেছিলাম রামমন্দিরের একটি নতুন শেড তৈরি করে দেওয়ার জন্য। তিনি আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে সেই কাজ করে দিচ্ছেন। আমরা বিধায়ক এবং পুরসভার কাছে কৃতজ্ঞ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ