Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বালুরঘাটে হারের বুথ ভিত্তিক ‘ময়নাতদন্ত’ তৃণমূলের বৈঠকে, বিধায়কদের জনসংযোগে জোর দিতে নির্দেশ

বুথ ভিত্তিক তৃণমূলের সংগঠন এবং নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হল তৃণমূলের বৈঠকে। কোন বুথে বিরোধীদের থেকে তৃণমূল পিছিয়ে রয়েছে, সেটাই উঠে এল পর্যালোচনায়।

বালুরঘাটে হারের বুথ ভিত্তিক ‘ময়নাতদন্ত’ তৃণমূলের বৈঠকে, বিধায়কদের জনসংযোগে জোর দিতে নির্দেশ
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুথ ভিত্তিক তৃণমূলের সংগঠন এবং নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হল তৃণমূলের বৈঠকে। কোন বুথে বিরোধীদের থেকে তৃণমূল পিছিয়ে রয়েছে, সেটাই উঠে এল পর্যালোচনায়। কী কারণে তৃণমূল সেখানে পিছিয়ে আছে, সেই প্রশ্নের মুখে পড়লেন জেলা নেতারা। আগামী দিনে ওই এলাকাগুলিতে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কী করণীয়, তার নির্দেশিকা দেওয়া হল। বিধায়কদের জনসংযোগে আরও নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

মঙ্গলবার কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে দক্ষিণ দিনাজপুর ও জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। দিনের ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বালুরঘাট আসনে মাত্র ১০ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপির সুকান্ত মজুমদার। তৃণমূল ভালো লড়াই করে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে গিয়েছে। কেন এই খারাপ ফল হল, সেটাই এদিন তৃণমূলের পর্যালোচনার বৈঠকে উঠে আসে। সূত্রের খবর, বৈঠকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার নেতাদের কাছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানতে চান, কেন বালুরঘাটে হার হল? কোথায় সমস্যা হয়েছে? বালুরঘাট আসন নিয়ে তৃণমূল জয়ের জায়গায় ছিল। তাহলে মাত্র ১০ হাজার ভোটে হারতে হল কেন? 
জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে অভিষেক উল্লেখ করেছেন, সকলে মিলে আর একটু সংগঠিত লড়াই দিতে পারলে বালুরঘাট আসনেও জয় ছিনিয়ে আনা যেত। এদিনের বৈঠকে বুথ ধরে ধরে আলোচনা হয়েছে। যেসব বুথে তৃণমূলের পরাজয় হয়েছে, সেগুলিতে আরও নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সেনাপতি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বুথে সংগঠন যত শক্তিশালী হবে, তত তৃণমূলের জয়ের রাস্তা আরও প্রশস্ত হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত বালুরঘাট লোকসভা আসনের মধ্যে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে লোকসভা ভোটের ফলের নিরিখে তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু তিনটিতে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। ফলে যে জায়গায় বিজেপি এগিয়ে রয়েছে, সেখানে আগামী ছ’মাস নেতাদের পড়ে থেকে তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। যেখানে তৃণমূলের বিধায়ক আছেন, সেখানে তাঁদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আর যে বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের বিধায়ক নেই, সেখানে সংশ্লিষ্ট তৃণমূল নেতাকে সংগঠন শক্তিশালী করার পারফরম্যান্স দেখাতে হবে নির্দেশ রাজ্যের তরফে।
অন্যদিকে, এদিন জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গিপুর আসনে তৃণমূল জিতেছে। এই লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রেই ছাব্বিশের নির্বাচনে জোড়াফুল ফোটানোর টার্গেট দেওয়া হয়েছে। তার জন্য রাজ্য তৃণমূলের কড়া নির্দেশ, জেলার নেতাদের রাগ-অভিমান-দ্বন্দ্ব দূরে রেখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই লড়াই করতে হবে। ১৫ দিন অন্তর জেলা নেতাদের বৈঠক করা চাই। সংগঠনে যেটুকু ফাঁকফোকর রয়েছে, তা দ্রুত ভরাট করতে হবে। কোনও নেতা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রশ্রয় দিলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থাই নেবে দল। স্পষ্ট নির্দেশ তৃণমূল নেতৃত্বের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ