নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: আদিবাসী ছাত্রীকে কটূক্তি, জাত তুলে গালিগালাজ, কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠল ব্লকের প্রভাবশালী এক তৃণমূল নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে বীরভূমের রাজনগরে। ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতার ছেলের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনায় আরও দুই অভিযুক্তের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদিবাসী যুবতীকে হেনস্তার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। তৃণমূল নেতার ছেলেকে গ্রেফতারের দাবিতে পথে নেমেছে সিপিএম। এদিন রাজনগর থানায় বিক্ষোভও দেখায় দলের নেতাকর্মীরা। জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ অবশ্য জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ামাত্রই পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশা করছি বাকি অভিযুক্তদেরও শীঘ্রই গ্রেপ্তার করতে পারব। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই আদিবাসী যুবতী ও তাঁর এক বান্ধবী বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। শুক্রবার বিকেলে কোচিং সেরে রাজনগর থেকে বাড়ি ফিরছিল। ফেরার সময় দু’জনেই আলিগড়ে মিষ্টি খেতে দাঁড়ান। সেইসময় থেকেই স্থানীয় তিনজন যুবকের কুনজরে পড়েন ওই দুই ছাত্রী। দুই ছাত্রী মিষ্টির দোকান থেকে বেরিয়ে ফের সাইকেলে ওঠেন। তিন যুবক দু’টি বাইকে করে তাঁদের ধাওয়া করতে শুরু করে। চৌকিশাল মোড়ের কাছে যুবকরা বাইক নিয়ে ওই দুই ছাত্রীর পথ আটকায়। ফোন নম্বর চেয়ে বিরক্ত করতে থাকে। অশালীন আচরণ শুরু হয়। দেওয়া হয় কুপ্রস্তাব। ওই আদিবাসী যুবতী এনিয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। ছোটলোক বলে জাত তুলে গালিগালাজ করা হয় ওই যুবতীকে।
তবে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন ওই দুই যুবতী। তাঁরা ফোন বের করে যুবকদের ছবি তোলার পাশাপাশি বাড়িতেও ফোন করার চেষ্টা করেন। তাতেই বেগতিক বুঝে গালিগালাজ দিতে দিতে এলাকা ছাড়ে তিন যুবক। বাড়িতে ফিরে ঘটনার কথা পরিবারের সদস্যদের জানান ওই দুই যুবতী। ওইদিন রাতেই পাড়ার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই আদিবাসী যুবতীর বাবা। মোবাইলে তোলা ছবিও দেখানো হয় পুলিশ আধিকারিকদের। তাতেই তিন যুবকের মধ্যে দু’জন শনাক্ত হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদিবাসী ছাত্রীর প্রতি হেনস্তা, কুপ্রস্তাব, অশালীন আচরণ ও জাত তুলে গালিগালাজের ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। কজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার ধৃতকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হলে ১৪দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আর এক অভিযুক্তকে শনাক্তকরণের পাশাপাশি ব্লক তৃণমূলের পদাধিকারী নেতার ছেলের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
ঘটনার জেরে এলাকায় শোরগোল পড়েছে। ছাত্রীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছে সিপিএমের এক প্রতিনিধিদল। রবিবার থানায় বিক্ষোভ দেখিয়ে স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়েছে পার্টির পক্ষ থেকে। উপস্থিত ছিলেন শীতল বাউড়ি, উত্তম মিস্ত্রি, অরুণ সাধু, শুকদেব বাগদি, মিলন খান প্রমুখ। তাঁদের দাবি, আদিবাসী ছাত্রীদের উপর হেনস্তা ক্রমশই বাড়ছে। রামপুরহাট থেকে শুরু করে নলহাটি, রাজনগরের ঘটনা তাই প্রমাণ করছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। যদিও রাজনগরের ব্লক সভাপতি সুকুমার সাধু স্পষ্ট বলেন, অভিযুক্ত যত বড় তৃণমূল নেতার ছেলেই হোক না কেন আইন আইনের পথে চলবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।