Bartaman Logo
১৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রার্থী হতে চেয়ে কলকাতায় দৌড়ঝাঁপ তৃণমূল নেতাদের

ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, পূর্ব মেদিনীপুরে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক তৃণমূল নেতাদের দৌড়ঝাঁপ তত বাড়ছে। জেলায় মোট ১৬টি আসনে কে কোথায় প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে চর্চার শেষ নেই।

প্রার্থী হতে চেয়ে কলকাতায় দৌড়ঝাঁপ তৃণমূল নেতাদের
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, পূর্ব মেদিনীপুরে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক তৃণমূল নেতাদের দৌড়ঝাঁপ তত বাড়ছে। জেলায় মোট ১৬টি আসনে কে কোথায় প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে চর্চার শেষ নেই। তমলুক থেকে পাঁশকুড়া, চণ্ডীপুর থেকে পটাশপুর সর্বত্র প্রার্থীপদ নিয়ে আলোচনা চলছে। তাতে সাধারণ মানুষও অংশ নিচ্ছে। ময়না, খেজুরি, ভগবানপুর, পাঁশকুড়া পশ্চিম প্রভৃতি আসনে গতবারের প্রার্থীরা কেউ দাঁড়াচ্ছেন না। তাঁদের কেউ দল ছেড়েছেন। কেউবা প্রার্থী না হওয়ার কথা আগাম ঘোষণা করেছেন। তবে, ১৬টি আসনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুকের সংখ্যাটা প্রায় ৫০এর কাছাকাছি। শেষমেশ কার ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

Advertisement

সোমবার জেলাশাসক অফিসে এসেছিলেন চণ্ডীপুরের দুই টার্মের বিধায়ক অমিয়কান্তি ভট্টাচার্য। যদিও এদিন এসআইআর নিয়ে জেলা জজ সহ অন্যান্য বিচারকের সঙ্গে দফায় দফায় মিটিংয়ে জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল প্রচণ্ড ব্যস্ত ছিলেন। অমিয়বাবু জানান, ২০২১সালে চণ্ডীপুর থেকে সোহম চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছিল দল। তিনি দলের নির্দেশকে শিরোধার্য মেনেই লড়াই করে সোহমকে জিতিয়েছেন। এবার সেই আসনে জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিকের নাম জোর চর্চায় আসায় তিনি উদ্বিগ্ন। তাই তিনি ডিএমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন।
সোমবার জেলাশাসক অফিসে এসেছিলেন নন্দকুমারের বিধায়ক সুকুমার দে। নিজের বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের টাকা দ্রুত খরচ করে পারফরম্যান্সের নিরিখে এগিয়ে থাকার লক্ষ্যে এদিন আসেন। সুকুমারবাবু বলেন, এবার প্রার্থী পদে একাধিক দাবিদার আছেন। শেষমেশ কী হবে জানি না।
কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ পণ্ডা দিন চারেক আগে ক্যামাক স্ট্রিটে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। তাঁর সঙ্গে তোলা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি। ওই নেতার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, ২০২১সালে পীযূষবাবু পটাশপুর বিধানসভা থেকে প্রার্থীর দৌড়ে ছিলেন। প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর নাম ঘোষণাও করে দিয়েছিলেন। পরে পটাশপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হিসাবে উত্তম বারিকের নাম ঘোষণা করা হয়। এবার পটাশপুর থেকে পীযূষবাবুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও এই আসনে পটাশপুর-২পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি স্বপন মাইতির নামও জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।
ভগবানপুর আসনে জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মানব পড়ুয়া প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে কলকাতায় দৌড়ঝাঁপ করছেন। খেজুরি বিধানসভা থেকে গতবারে প্রার্থী হওয়া পার্থপ্রতীম দাস এখন আর দলের সঙ্গে যুক্ত নন। সংরক্ষিত ওই আসনে জেলা পরিষদ সদস্য রবিন মণ্ডল, প্রাক্তন বিধায়ক রণজিৎ মণ্ডল, জেলা পরিষদ সদস্য তথা অধ্যাপক রামকৃষ্ণ দাস, কাঁথি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নিরঞ্জন মান্নার নাম চর্চায় আসছে। ময়না বিধানসভায় গতবারের তৃণমূল প্রার্থী সংগ্রাম দোলই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সেখানে কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা চলছে। 
এবার আর ভোটে দাঁড়াতে চান না শহিদ জননী ফিরোজা বিবি। তাঁর বিধানসভা পাঁশকুড়া পশ্চিম আসনে জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায়, আনিসুর রহমানের নাম ভাসছে। যদিও আনিসুর আদালতের শর্তে জেলায় আসতে পারছেন না। ঘন ঘন সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন করলেও খারিজ হচ্ছে। 
কাঁথি দক্ষিণ আসনে সুপ্রকাশ গিরির সঙ্গে ভাইজান হিসাবে পরিচিত আব্দুস সাত্তারের নাম জোরালোভাবে ভাসছে। তমলুক আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ