Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইঞ্জিনিয়ারকে মারধর তৃণমূল নেতাদের, বন্ধ রেলের কাজ

বকেয়া পাওনার দাবিতে রেল প্রজেক্টে সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে চড়, ঘুসি মারার পাশাপাশি ইলেক্ট্রিক পোস্টে বেঁধে নিগ্রহের চেষ্টা পাঁশকুড়ায়।

ইঞ্জিনিয়ারকে মারধর তৃণমূল নেতাদের, বন্ধ রেলের কাজ
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বকেয়া পাওনার দাবিতে রেল প্রজেক্টে সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে চড়, ঘুসি মারার পাশাপাশি ইলেক্ট্রিক পোস্টে বেঁধে নিগ্রহের চেষ্টা পাঁশকুড়ায়। শুক্রবার ওই ঘটনার পর থেকেই ক্ষীরাই এলাকায় রেলের কাজ বন্ধ। নিগৃহীত সাইট ইঞ্জিনিয়ার নিমাই বর্মন এনিয়ে ক্ষীরাই সংলগ্ন দোকাণ্ডা গ্রামের দুই তৃণমূল নেতা সমীর মাইতি ও সুজিত ঘোড়াইয়ের বিরুদ্ধে পাঁশকুড়া থানায় এফআইআর করেছেন। রবিবার ওই থানার পুলিস দুই নেতার বাড়িতে পৌঁছয়। ইঞ্জিনিয়ার নিগৃহীত হওয়ার পর থেকেই গুয়াহাটির ওই ঠিকাদার সংস্থা ক্ষীরাইতে কাজ বন্ধ রেখেছে। ইঞ্জিনিয়ারকে মারধরের জেরে রেলের কাজ বন্ধ হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে কংসাবতী নদীর উপর ক্ষীরাই রেল ব্রিজ থেকে ক্ষীরাই স্টেশন বরাবর ঢালাই, ড্রেন ও দেওয়াল তৈরির কাজ চলছে। প্রায় ১৮ কোটি টাকার ওই প্রজেক্টের বরাত পেয়েছে গুয়াহাটির একটি সংস্থা। সেই সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার হলেন সবংয়ের জগন্নাথচক গ্রামের নিমাই বর্মন। নিমাইবাবু এবছর মে মাসে ক্ষীরাইতে ওই প্রজেক্টে যোগ দেন। তিনি সাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ওই কাজ দেখভাল করছেন। 
জানা গিয়েছে, ওই ওই প্রজেক্টে ইলেক্ট্রিক সংযোগ সরবরাহ করেন সমীর মাইতি। তিনি দোকাণ্ডা বুথের তৃণমূল নেতা। তিনিও পেশায় ঠিকাদার। তাঁর কর্মাশিয়াল মিটার থেকে ওই প্রজেক্টে বিদ্যুৎ সাপ্লাই দেওয়া হয়। গত জানুয়ারি মাস থেকে তিনি বকেয়া ৪০ হাজার টাকা পাচ্ছেন না। জানা গিয়েছে, বকেয়া টাকার জন্য সমীরবাবু কয়েকবার ওই ঠিকাদার সংস্থাকে জানিয়েছেন। কিন্তু, টাকা মেলেনি। শুক্রবার ওভারটাইম কাজ করা নিয়ে সাইট ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কয়েকজন শ্রমিকের বচসা বাধে। সেই সময় আচমকা ওই ইঞ্জিনিয়ারের উপর চড়াও হন সমীরবাবু ও সুজিতবাবু। সুজিতবাবুর বাবা উত্তম ঘোড়াই ওই ঠিকাদার সংস্থার অধীনে কাজ করছেন। উত্তমবাবুরও কিছু পারিশ্রমিক বকেয়া আছে। বিষয়টি ইঞ্জিনিয়ার নিমা‌ইবাবুকে জানানো হয়েছিল। তারপরও পেমেন্ট হয়নি। 
প্রতিদিন রেলের ওই প্রজেক্টে ১৮-২০জন শ্রমিক কাজ করেন। শুক্রবার এলাকার দুই তৃণমূল নেতা ইঞ্জিনিয়ারের উপর হামলা ও নিগ্রহ করায় আপাতত কাজ বন্ধ। শ্রমিকরা ক্যাম্প ছেড়ে বাড়ি চলে গিয়েছে। টেকনিক্যাল কর্মীরাও ক্যাম্প ছেড়েছেন। গোটা ঘটনায় এলাকার পরিবেশ থমথমে। নিগৃহীত ইঞ্জিনিয়ার নিমাইবাবু বলেন, শুক্রবার দোকাণ্ডা গ্রামের ওই দু’জন আচমকা আমাদের উপর হামলা চালায়। চড়, ঘুষি মারার পাশাপাশি বিদ্যুতের খুঁটিতে বাঁধার চেষ্টা করে। অন্যান্য টেকনিক্যাল কর্মীদের সাহায্যে আমি কোনওরকমে রেহাই পাই। তারপর পাঁশকুড়া থানায় গিয়ে এফআইআর দায়ের করি। ঘটনার পর থেকে ঠিকাদার সংস্থা কাজ বন্ধ রেখেছে। 
অভিযুক্ত সমীরবাবু বলেন, আমি ওই সংস্থাকে কমার্শিয়াল মিটারের সাহায্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করি। ওরা জানুয়ারি মাস থেকে টাকা দেয়নি। পাওনা টাকা নিয়ে ওই ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে ঝামেলা হয়। উনি আমাকে মারধর করেছেন। অথচ, থানায় আমার নামে এফআইআর করেছেন। রবিবার আমার বাড়িতে পুলিস এসেছিল।
বিজেপি নেতা সিন্টু সেনাপতি বলেন, রেলের কাজে নানা অজুহাতে বাগড়া দিচ্ছে শাসক দলের লোকজন। তোলা না পেয়ে ইঞ্জিনিয়ারকে মারধর করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। আশা করব, প্রশাসন উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সুজিত রায় বলেন, রেল প্রজেক্টে ঝামেলার বিষয়টি আমাদের নজরে নেই। ঠিকাদার সংস্থা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে নিশ্চয়ই সমস্যা সমাধান করা হবে। এখানে তোলাবাজির কোনও বিষয় নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ