Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মা পঞ্চায়েত প্রধান, কোচবিহারে তৃণমূল নেতাকে গুলি করে খুন

কোচবিহারে ফের শ্যুটআউট! প্রকাশ্য দিবালোকে জনবহুল হাটের মধ্যে গুলি করে খুন করা হল তৃণমূল নেতাকে। শনিবার কোচবিহার উত্তর বিধানসভার ডোডেয়ারহাটে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত নেতার নাম সঞ্জিত রায় ওরফে অমর (৩৫)।

মা পঞ্চায়েত প্রধান, কোচবিহারে তৃণমূল নেতাকে গুলি করে খুন
  • ১০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহারে ফের শ্যুটআউট! প্রকাশ্য দিবালোকে জনবহুল হাটের মধ্যে গুলি করে খুন করা হল তৃণমূল নেতাকে। শনিবার কোচবিহার উত্তর বিধানসভার ডোডেয়ারহাটে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত নেতার নাম সঞ্জিত রায় ওরফে অমর (৩৫)। তাঁর মা কুন্তলা রায় ডাউয়াগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান। অমরও ডাউয়াগুড়ি অঞ্চলেই তৃণমূল কংগ্রেসের সামনের সারির নেতা ছিলেন।

Advertisement

প্রতি মঙ্গল ও শনিবার ডোডেয়ারহাটে বেচাকেনা হয়। গাড়িতে চেপে এদিন অমর কয়েকজনের সঙ্গে সেখানেই মাংস কিনতে গিয়েছিলেন। তখন জনাকয়েক দুষ্কৃতী খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি করে। তাঁর গাড়ির চালক আলমগীরেরও গুলি লেগেছে। স্থানীয় নার্সিংহোমে তিনি চিকিৎসাধীন। অমরকে আক্রমণ করার সময় দুষ্কৃতীরা শূন্যেও কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়।  
হাটের মধ্যে হঠাৎ করে এমন গুলি চালনার খবর পেয়ে পুলিস সেখানে পৌঁছয়। গুরুতর জখম নেতাকে কোচবিহারের মহারাজা জিতেন্দ্রনারায়ণ মেডিক্যালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খুনের পিছনে রাজনৈতিক টানাপোড়েন রয়েছে, নাকি ব্যক্তিগত ঝামেলার জেরেই এমন ঘটনা, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। পুলিস সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য সহ অন্য আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি গুলির খোল উদ্ধার করেছেন। খবর পেয়েই হাসপাতালে যান জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ, এনবিএসটিসির চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায় সহ একাধিক নেতা।  
পুলিস সুপার বলেন, পুণ্ডিবাড়ির ডোডেয়ারহাটে বিকেলে অমর রায় ও আর একজন এসেছিলেন। আচমকাই দু’টি বাইকে এসে তাঁদের উপর গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। অমরের মৃত্যু হয়েছে। আর একজনের পায়ে গুলি লেগেছে। তিনি চিকিৎসাধীন। উদয়ন গুহ বলেন, বিজেপির এই ধরনের হামলা করার অভ্যাস রয়েছে। পুলিস সবটা তদন্ত করুক। আমরা আগেই কোনও ছাপ দিচ্ছি না। তবে, খুনের পিছনে রাজনৈতিক কারণ থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা চাই, পুলিস দোষীদের খুঁজে বের করুক। 
জেলা তৃণমূল সভাপতির কথায়, বহুদিন পর কোচবিহারে এমন ঘটনা ঘটল। পুলিসকে নিরপেক্ষ তদন্ত করার সুযোগ দিতে হবে। এই অঞ্চলে অমরের মা প্রধান হওয়ার পর বিজেপির ক্ষমতা কমে গিয়েছে। এই এলাকার কয়েক কিলোমিটার দূরে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ রাজু দে’কেও গুলি করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। তার মধ্যেই এই খুনের ঘটনায় জেলার রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বেড়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ