নিজস্ব প্রতিনিধি, খয়রাশোল: গত একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূম জেলায় তৃণমূলের সাজানো বাগানে একমাত্র কাঁটা ছিল দুবরাজপুর। যে মাটিতে ঘাসফুল ফোটানো ছিল দস্তুর, সেখানে বেনজিরভাবে ফুটেছিল ‘পদ্ম’। এবার সেই হারের ক্ষত মুছতে এবং দলের অন্দরের কোন্দল থামাতে এই বিধানসভাকেই বেছে নিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী বৃহস্পতিবার খয়রাশোলের গোষ্ঠডাঙা মাঠে জেলার প্রথম নির্বাচনী সভা করবেন দলনেত্রী। সেখান থেকেই দুবরাজপুর পুনরুদ্ধারের ডাক দেবেন তিনি। তবে নেত্রীর সফরের আগে তৃণমূলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খয়রাশোলের সেই চেনা রাজনীতি। যেখানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে পরপর তিনজন ব্লক সভাপতিকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। সেই সভাপতিহীন ব্লকে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিবাদমান গোষ্ঠীগুলোকে এক সুতোয় বাঁধতে পারেন কি না সেটাই দেখার।
সোমবার সকাল থেকেই খয়রাশোলের গোষ্ঠডাঙা মাঠে সাজসাজ রব। মঞ্চ তৈরির তোড়জোড়ের পাশাপাশি হেলিকপ্টারের মহড়াও সারা হয়েছে। বিকেলে সভাস্থল পরিদর্শনে যান জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। সঙ্গে ছিলেন কোর কমিটির সদস্য সুদীপ্ত ঘোষ, জেলা তৃণামূলের সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় সহ স্থানীয় নেতারা। তবে এদিনের হাই-ভোল্টেজ সাংগঠনিক বৈঠকে নজর কেড়েছে প্রার্থী নরেশ বাউড়ির অনুপস্থিতি। সকালে কাজল শেখের সঙ্গে তারাপীঠে পুজো দিলেও বিকেলে অনুব্রতর ডাকা বৈঠকে প্রার্থীর গরহাজিরা নিয়ে দলের অন্দরেই কানাঘুষো শুরু হয়েছে। যদিও তাঁর অনুগামীদের দাবি, ‘দাদা প্রচারে ব্যস্ত।’
তৃণমূলের অন্দরের হিসেব বলছে, দুবরাজপুর বিধানসভার অন্তর্গত খয়রাশোল ব্লকই গত নির্বাচনে দলের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই বিজেপির কাছে প্রায় ৬ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। শুধু তাই নয়, দুবরাজপুর শহরের ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১টিতেই হারতে হয়েছিল ঘাসফুলকে। এই ভরাডুবির নেপথ্যে কাজ করেছে চরম গোষ্ঠীকোন্দল। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, কোন্দলের জেরে খয়রাশোল ও দুবরাজপুর- দুই ব্লকেই কোনো নির্দিষ্ট সভাপতি নেই। দল চলছে কোর কমিটির ভরসায়।
এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েই কর্মীদের চাঙ্গা করতে আসছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খয়রাশোল কোর কমিটির সদস্য কাঞ্চন দে বা দুবরাজপুরের কোর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রফিউল হোসেনরা অবশ্য জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। কার্যত একই সুরে দু’জনে বলেন, দুবরাজপুর বিধানসভা এলাকার মানুষ বুঝে গিয়েছেন যে উন্নয়ন কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই সম্ভব। গতবার সাময়িক কিছু বিভ্রান্তি হয়েছিল। কিন্তু এবার আমাদের সংগঠন অনেক বেশি মজবুত। নেত্রীর জনসভা থেকেই বিজেপির বিদায়ের ঘণ্টা বেজে যাবে। দুবরাজপুর বিধানসভা জুড়ে এবার ঘাসফুলের জয়জয়কার হবে।