নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বিজেপি নেত্রীর সঙ্গে গাড়িতে মদ্যপানের পার্টি! ভাইরাল হওয়া ভিডিও’র (সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান) পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু করল দল। ইতিমধ্যেই ওই নেতাকে শোকজ করা হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ। সন্ধ্যায় জলপাইগুড়িতে তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায়কে পাশে বসিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া গোপ বলেন, একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিও আদৌ কতটা সত্যি তা আমাদের জানা নেই। তবে যেহেতু একটা ভিডিও সামনে এসেছে এবং তাতে দলের এক নেতার নাম জড়িয়েছে, আমরা ওই নেতাকে শোকজ করেছি। তিনি কী উত্তর দেন, সেটা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে।
এদিকে, যে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, এদিন রাতে ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখনও শোকজের চিঠি পাইনি। তবে জেলা সভানেত্রী যখন বলেছেন, শোকজের চিঠি পেলে নিশ্চয়ই সময়ের মধ্যে উত্তর দেব। তাঁর দাবি, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। আমরা দু’জনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গল্প করছিলাম। নেত্রীকে গাড়িতে বসতে বাধ্য করা হয়। যাঁরা ভিডিও রেকর্ডিং করেন, তাঁরা আমার এবং ওই বিজেপি নেত্রীর কাছে ১০ লক্ষ টাকা চান। টাকা দিতে পারব না বলাতেই ভিডিও ভাইরাল করা হয়।
দলীয় সূত্রে খবর, ওই নেতার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের তরফে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, বিজেপি নেত্রীর সঙ্গে রাতের অন্ধকারে ডুয়ার্সের ফাঁকা রাস্তায় দাঁড় করানো গাড়ির ভিতর মদ্যপানের পার্টিতে নাম জড়ানো তৃণমূল নেতার সাংবাদিক সম্মেলনে পাশের চেয়ারে পদ্মশ্রী করিমুল হকের উপস্থিতি ঘিরে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। নিজের পক্ষে সাফাই দিতে ক্রান্তি এলাকায় একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন ওই তৃণমূল নেতা। সেখানে নেতার পাশের চেয়ারে করিমুলের বসে থাকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। যদিও এদিন করিমুল সাহেব বলেন, ওই তৃণমূল নেতা একজন জনপ্রতিনিধি। আমি তাঁর কাছে একজনের বার্ধক্যভাতার ফর্মে সই করাতে গিয়েছিলাম। সেসময় নেতা সাংবাদিক সম্মেলন করছিলেন। সেকারণে নেতার পাশে বসেছিলাম। ভাইরাল হওয়া ভিডিও সত্যি হলে তা চরম নিন্দনীয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিজেপি শিবিরেও চর্চা তুঙ্গে। নেত্রীকে ইতিমধ্যেই পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে দল। যদিও তাতে ক্ষোভ প্রশমিত হচ্ছে না বিজেপি কর্মীদের একাংশের। তাঁদের দাবি, দলের মহিলা মোর্চার ওই নেত্রীর আচরণ মোটেই ভালো নয়। যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তাতে বিজেপির ইমেজ নষ্ট হয়েছে। শুধু দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নয়, ওই নেত্রীকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।