Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভূপতিনগরে প্রচুর বেআইনি বাজি সহ গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা

গাড়িভর্তি বেআইনি আতশবাজি সহ তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করল ভূপতিনগর থানার পুলিস। ধৃতের নাম সুবীর মাইতি। বাড়ি ভূপতিনগর থানার অর্জুননগর পঞ্চায়েতের কমলনয়নবাড় গ্রামে।

ভূপতিনগরে প্রচুর বেআইনি বাজি সহ গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা
  • ১৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: গাড়িভর্তি বেআইনি আতশবাজি সহ তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করল ভূপতিনগর থানার পুলিস। ধৃতের নাম সুবীর মাইতি। বাড়ি ভূপতিনগর থানার অর্জুননগর পঞ্চায়েতের কমলনয়নবাড় গ্রামে। ধৃত সুবীর তৃণমূলের বুথ কমিটির নেতা। ইটাবেড়িয়া বাজারে তার দশকর্মার দোকান রয়েছে। সেই দোকানে আতশবাজি বিক্রি হতো। ১৫আগস্ট সন্ধ্যায় সেই দোকানে হানা দিয়ে প্রচুর বাজি সহ ওই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। নাড়ুয়াবিলা বিস্ফোরণ মামলায় ওই নেতার নাম জড়িয়েছিল। তাকে নোটিসও দিয়েছিল এনআইএ। ওই নেতা গ্রেপ্তার হতেই ভূপতিনগরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। 

Advertisement

ভূপতিনগর থানার ওসি শেখ মহম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ইটাবেড়িয়া বাজারে সুবীর মাইতির দোকানে হানা দিয়ে বেআইনি আতশবাজি পাওয়া গিয়েছে। সেসব বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সুবীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ধৃত তৃণমূল নেতা এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০২৩সালে ৮জুলাই পঞ্চায়েত ভোটের দিন দুপুরে কমলনয়নবাড় প্রাইমারি স্কুলের ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। সুবীর ও তার দলবল দরজা বন্ধ করে বোমা-বন্দুক নিয়ে ভিতরে ঢুকে ছাপ্পা মারার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। বিজেপির পঞ্চায়েত প্রার্থী টুম্পা শীটের দেওর অনুপকুমার শীট ছাপ্পায় বাধা দিতে গেলে দু’রাউন্ড গুলি চলে। অনুপকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর ডান পা ভেঙে যায়। মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তমলুক ও কলকাতায় দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর অনুপ সুস্থ হন। অভিযোগ, ছাপ্পা ও মারধরের ঘটনায় সুবীর সহ মোট ১৭জনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়। পরবর্তীতে আদালত থেকে জামিন পায়।
সুবীর ইটাবেড়িয়ায় নিজের দশকর্মা দোকানে অবাধে আতশবাজি বিক্রি করত বলে অভিযোগ। দলের লোকজন এনিয়ে সতর্ক করার পরও বিক্রি বন্ধ করেনি। পুলিস তার কিছু করবে না, এমন একটা মনোভাব নিয়েই সে দোকানে বাজি সাজিয়ে রেখেছিল। ধারাবাহিক অভিযোগ পেয়ে ১৫আগস্ট সন্ধ্যা নাগাদ পুলিস তার দোকানে হানা দিয়ে বেআইনি আতশবাজি উদ্ধার করে। পাশাপাশি ওই তৃণমূল নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
ভগবানপুরের বিধায়ক বিজেপি নেতা রবীন্দ্রনাথ মাইতি বলেন, সুবীরের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও পুলিস দীর্ঘদিন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। অবাধে বোমার কারবার চালাত। নিজে বোমা বানাতেও জানে। নাড়ুয়াবিলা বিস্ফোরণ ঘটনাতেও সে অভিযুক্ত। আমরা ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। 
জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা মানব পড়ুয়া বলেন, সুবীর মাইতি আমাদের দলের কর্মী। আতশবাজি বিক্রি করত। তাকে ওই কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। নাড়ুয়াবিলা বিস্ফোরণ কেসে এনআইএ তাকে নোটিস দিয়েছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ