নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বরানগরে ব্যবসায়ীকে ফ্ল্যাট থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অর্পন দত্ত এখনও বেপাত্তা। শুধু তাই নয়, ওই ব্যবসায়ীকে তুলে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন বরানগরের আইএনটিটিইউসি নেতা শঙ্কর রাউত, এমনটাই অভিযোগ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বরানগরের বসিন্দারা। এই আবহে শঙ্কর রাউতকে থানায় হাজিরা দেওয়ার নোটিসকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও শঙ্করবাবুর দাবি, তিনি এমন কোনও নোটিস পাননি। ই-মেলে যদি কোনো নোটিস এসে থাকে, তা তিনি দেখেননি।
বরানগরের বনহুগলিতে থাকেন সুদীপ্ত ঘোষ। তিনি বারাসতের একটি ফ্ল্যাটে ইন্টিরিয়ার ডিজাইনের কাজ করেছিলেন। প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেলেও সুদীপ্তবাবু প্রয়োজনীয় টাকা ওই ফ্ল্যাট মালিকের থেকে পাননি বলে অভিযোগ। এনিয়ে ওই ফ্ল্যাট মালিকের সঙ্গে সুদীপ্তবাবুর ঝামেলা চলছিল। অভিযোগ, এই সমস্যার মধ্যে ঢুকে পড়েন বরানগরের তৃণমূল নেতা শঙ্কর রাউত। সুদীপ্তবাবুর অভিযোগ, গত শনিবার শঙ্কর রাউত চার সাগরেদকে তাঁর বরানগরের ফ্ল্যাটে পাঠান। সেখানে দাঁড়িয়ে তারা শঙ্করের নিদান লাউড স্পিকারে শোনায়। তিনি শঙ্করবাবুর ক্লাবে যেতে না চাওয়ায় তাঁকে মারধর করে জোর করে ক্লাবে টেনে নিয়ে যায়। এরপর শঙ্করবাবুর নির্দেশে তাঁকে মারধর করে এক লক্ষ টাকা তোলা চাওয়া হয়। তা দিতে তিনি অস্বীকার করায় ফের মারধর করা হয়। ব্যবসায়ীকে মারধরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার ছবি ভাইরাল হতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যবসায়ী শঙ্কর রাউত সহ পাঁচজনের নামে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন থানায়। ওই ঘটনায় পুলিশ রাহুল যাদব ওরফে বগা, আয়ুষ কুণ্ডু ওরফে গোপাল ও অরিত্র দাস ওরফে দীপকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু মূল অভিযুক্ত অর্পণ দত্তকে এখনও পাকড়াও করতে পারেনি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে মারধর করতে দেখা গিয়েছে। সে শঙ্কর রাউতের অন্যতম সাগরেদ তথা বরানগর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি। স্বভাবতই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই আবহে শঙ্করবাবুকে পুলিশ নোটিস পাঠানোয় গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। কমিশনারেটের ডিসি (দক্ষিণ) অনুপম সিং বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। আইন মেনেই শঙ্কর রাউতকে নোটিস পাঠানো হয়েছে।