Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাসিন্দাদের সন্তুষ্টিকে পুঁজি করে মালদহ জয়ের লড়াইয়ে তৃণমূল

ইংলিশবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের একবারে গা ঘেঁষে মালদহ বিধানসভা। আদতে পুরাতন মালদহ বলে পরিচিত ব্লক এবং পুরসভা এলাকা নিয়ে এই বিধানসভা মালদহ নামেই উল্লিখিত। থানার নামও মালদহ।

বাসিন্দাদের সন্তুষ্টিকে পুঁজি করে মালদহ জয়ের লড়াইয়ে তৃণমূল
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

সৌম্য দে সরকার ও মঙ্গল ঘোষ, মালদহ ও গাজোল: ইংলিশবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের একবারে গা ঘেঁষে মালদহ বিধানসভা। আদতে পুরাতন মালদহ বলে পরিচিত ব্লক এবং পুরসভা এলাকা নিয়ে এই বিধানসভা মালদহ নামেই উল্লিখিত। থানার নামও মালদহ।

Advertisement

মালদহ বিধানসভা কেন্দ্রে যে ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে, সেগুলি প্রশাসনিকভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পুরাতন মালদহ ছাড়াও ইংলিশবাজার এবং হবিবপুর ব্লকে। জেলা সদর ইংলিশবাজার লাগোয়া এই কেন্দ্রে কিন্তু গ্রামীণ এলাকাই বেশি। ২০২১ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্র কংগ্রেসের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল বিজেপি। কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে তৃণমূল। এবার অবশ্য লড়াই চতুর্মুখী। তিন দল ছাড়াও লড়াইয়ে রয়েছেন সিপিআই প্রার্থী। 
প্রথম মহানন্দা ব্রিজ পেরিয়ে মালদহ বিধানসভা কেন্দ্রে পা রাখলেই স্পষ্ট বোঝা যায় নির্বাচনের পরিমণ্ডলে রাজনীতির হাত ধরে উঠে আসছে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তবে, জনমতের ইঙ্গিত-লড়াই মূলত তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে। কংগ্রেস-বামেদের অবশ্য খুব একটা মানুষের নির্বাচনি আলোচনায় ভেসে উঠতে দেখা গেল না।
বিদায়ী বিধায়ক এবং এবারের বিজেপি প্রার্থী গোপালচন্দ্র সাহা সম্পন্ন ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের মুখও কিন্তু ওজনদার। মালদহের এক অতি পরিচিত ব্যবসায়ী পরিবারের বধূ তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ। আদ্যন্ত রাজনৈতিক কর্মী, সুবক্তা, বিনয়ী ব্যবহারের জন্য পরিচিত প্রাক্তন বিধায়ক ভূপেন্দ্রনাথ হালদার লড়ছেন কংগ্রেসের হয়ে। সিপিআই প্রার্থী করেছে দীপক বর্মনকে। 
পুরাতন মালদহ পুরসভা এলাকায় পা রাখতেই শোনা গিয়েছে নির্বাচনে নাগরিক পরিসেবাকে ইস্যু করছে সব শিবির। বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ক্ষমতায় এলে সমতা রাখা হবে শহর এবং গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে। জবাব দিতে গিয়ে তৃণমূল প্রার্থী উদাহরণ দিয়ে দেখাচ্ছেন কীভাবে পুরাতন মালদহ পুরসভা উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে উঠেছে তৃণমূলের হাত ধরে। লিপিকা সহজেই পৌঁছে যাচ্ছেন মহিলা ভোটারদের কাছে। আড্ডা দিতে দিতে বলছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী, যুবসাথীর মতো ভাবনার রূপায়ণ করতে পারে একমাত্র তৃণমূলই। বিদায়ী বিধায়ককেও বিঁধতে ছাড়ছেন না লিপিকা। বিধায়ক কী কী উন্নয়ন করেছেন, তার খতিয়ান দাবি করে চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ছেন। বলেন, পাঁচ বছরে বিজেপি বিধায়ক কিছুই করেননি। সারা বছর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলি। এদিকে ভোটে জিতলে আরও ভালো নাগরিক পরিষেবার প্রতিশ্রতি দিচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী গোপাল। বিজেপির উত্তর মালদহের সভাপতি প্রতাপ সিংহের কথায়, বিধায়ক-সাংসদকে কোনো মিটিংয়ে ডাকে না জেলা প্রশাসন।  
দুই যুযুধান শিবিরের মধ্যে এলাকায় প্রচারের মাধ্যমে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন কংগ্রেসের ভূপেন্দ্রনাথ। তাঁকে অবশ্য এই নামে চেনেন কম মানুষই। তাঁর পরিচিতি ‘অর্জুন’ নামেই। তিনি ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন, এসআইআরের নামে মানুষকে হেনস্তার অভিযোগ তুলছেন বিজেপির বিরুদ্ধে।  তাঁর কথায়, মানুষই শেষ কথা। এবার আমাকেই আশীর্বাদ করবেন।
কংগ্রেসকে তেমন আক্রমণ না করলেও প্রচারে বিজেপিকে তুলোধনা করছেন সিপিআই প্রার্থী দীপক বর্মন।

সম্পর্কিত সংবাদ