নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ইনিউমারেশন ফর্ম বিলিকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল দত্তপুকুর ও দেগঙ্গায়। দুটি জায়গাতেই পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। জানা গিয়েছে, দত্তপুকুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের চালতাবেড়িয়া লোকনাথ পল্লির ২৫৭ নম্বর বুথে ভোটারদের ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণে সাহায্যের জন্য তৃণমূলের কর্মীরা একটি অস্থায়ী ক্যাম্প করেন। অভিযোগ, পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য সীমা সাহা এসে তাতে বাধা দেন। প্রতিবাদে সরব হন গ্রামবাসী ও তৃণমূল কর্মীরা। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বচসা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এই প্রসঙ্গে দত্তপুকুর ২ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মান্তু সাহা বলেন, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আমরা দলীয় নির্দেশে ক্যাম্প করি। অনেকেই ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে ভুল করে ফেলছেন। সেই কারণে গ্রামবাসীদের সহায়তার জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়েছে। আর তাতে বাধা দিচ্ছেন পঞ্চায়েত সদস্য। পাল্টা বিজেপি সদস্য সীমা সাহা বলেন, তৃণমূল মানুষকে ভুল বুঝিয়েছে। বলছে, এটা পঞ্চায়েত থেকে করা হচ্ছে। কিন্তু আমি কিছুই জানি না। তাই এর বিরোধিতা করেছি।
অন্যদিকে, দেগঙ্গার চৌরাশী পঞ্চায়েতের মাটিকুমড়ার ১৮০ নম্বর বুথে স্থানীয় বিএলও শেখ জাকির ফর্ম বিলি করছেন না বলে অভিযোগ। তাঁর বদলে ঘনিষ্ঠরা এলাকায় ইনিউমারেশন ফর্ম দিচ্ছেন। এখানেই অবশ্য শেষ নয়। সিপিএমের দাবি, অনেক দেরিতে ফর্ম বিলি করছেন তিনি। রবিবার দুপুরে বিএলও’র লোকজন এলাকায় ফর্ম বিলি করছিলেন। আটকে দেন স্থানীয়রা। শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ায় তড়িঘড়ি ফর্ম বিলি শুরু করেন বিএলও। যদিও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি তিনি। সিপিএম নেতা আজাদুল্লা মোল্লা বলেন, বিডিওকে অভিযোগ করা হয়েছে। বিএলও’র ছেলে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে এলাকায় ফর্ম বিতরণ শুরু করেন। প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় তৃণমূল নেতারা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য জাহিরুল মোল্লা বলেন, বিএলও সঠিক নিয়ম মেনে কাজ করছেন। সিপিএম নেতারা কোনও ইস্যু না পেয়ে এটা করছে। এনিয়ে দেগঙ্গার বিডিও ফাহিম আলম বলেন, বিএলওকে নিয়ে একটা অভিযোগ এসেছিল। সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে।