Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মন্দির ভেঙেছে তৃণমূল, সাইকেলে মালদহ থেকে সল্টলেকের বিজেপি অফিসে পূজারি

মালদহ থেকে সাইকেলে সল্টলেক বিজেপি অফিসে পৌঁছালেন পুজারি পীযুষ কর্মকার। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে এসেছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

মন্দির ভেঙেছে তৃণমূল, সাইকেলে মালদহ থেকে সল্টলেকের বিজেপি অফিসে পূজারি
  • ১৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালীঠাকুরের শতাব্দীপ্রাচীন দেবভূমি দখল করে ভেঙে দিয়েছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। সুরাহার আশায় মালদা থেকে সাইকেল চালিয়ে কলকাতায় বিজেপি অফিসে এলেন পূজারি। সাইকেল থামিয়ে বললেন, ‘তোমার কর্ম তুমি করো মা লোকে বলে করি আমি...’ 

Advertisement

পরনে রক্তাম্বর। সাইকেলে ভারতের পতাকা আর সোনালি ঝালর দেওয়া লাল পতাকা। হাতে ত্রিশূল ও ডুগডুগি। সাইকেলের হ্যান্ডেলে ময়ূরপুচ্ছ আর ঘণ্টি। সাইকেলে লেখা ‘মায়ের আশীর্বাদ’। মানুষটির বয়স বছর তেইশ। রোগা একহারা চেহারা। মাথায় লাল ফেট্টি। কানে মাকড়ি। কপালে লাল টিকা। গলায় মোটা রুদ্রাক্ষের মালা। কাঁধে ব্যাগ। তাতে মোটা ফাইল, বৃষ্টি পড়ছে বলে ফাইল প্লাস্টিকে মোড়া। তাতে দেবস্থান সংক্রান্ত কাগজপত্র। লোকটির নাম পীযুষ কর্মকার। বললেন, ‘আমি ধর্মযুদ্ধ শুরু করেছি।’
সোমবার রওনা দিয়েছিলেন মালদহের সাহাপুরের আজমপুর গ্রাম থেকে। ‘কালীর ইচ্ছাদেশে’ রোদ এবং বৃষ্টি মাথায় দীর্ঘ পথ একটানা সাইকেল চালিয়েছেন। সোমবার ক্লান্ত বিধ্বস্ত হয়ে এলেন কলকাতা। কাপড়চোপড় স্যাঁৎস্যাঁৎ করছে। সোমবার দুপুরে টিপটিপ করে একঘেয়ে বৃষ্টি হয়েই চলেছে। পীযুষ এসে পৌঁছলেন সল্টলেকে বিজেপি অফিসে। ইচ্ছা ছিল, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জানাবেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না বলে দেখা করতে পারেননি। অফিসে বিজেপির কার্যকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর বিকেল গড়ানোর আগে রওনা দেন আজমপুর। যাওয়ার আগে জানালেন, অফিসে প্রমাণ সহ কাগজপত্র সব দেখিয়েছেন। তা দেখে বিজেপির মালদা জেলার সভাপতি ও জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে তাঁকে। এবার চললেন মালদহ। তৃণমূল আমলে পারেননি। সনাতন ধর্মরক্ষায় ব্রতী এই সরকারের কাছে অনেক আশা। মনে করছেন এবার একটা হেস্তনেস্ত হবে।  অভিযোগপত্রে পীযুষ লিখেছেন, স্থানীয় জমি মাফিয়া ও প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি প্রাচীন দেবত্র সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে। মন্দিরের কাঠামো ভেঙে দিয়েছে। অপবিত্র জিনিসপত্র নিয়ে দেবস্থানে ঢুকে পবিত্রতা নষ্ট করেছে। দাবি জানিয়ে লিখেছেন, জমিটি দক্ষিণাকালীর নামে রেকর্ড করে দেওয়া হোক। মন্দির অপবিত্রকারীদের এবং জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ওই পবিত্র স্থানে বৃদ্ধাশ্রম ও গুরুকুল তৈরির প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হোক।
মানুষটি লম্বা যাত্রাপথে রাত কাটিয়েছেন কোনো মন্দিরে। ভক্তরা যা খেতে দিয়েছেন খেয়েছেন। এইভাবে অতিক্রম করেছেন প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ। ঝড়-বৃষ্টি-কাদা-রোদ-খানাখন্দ-রাতে কুকুর-শিয়ালের আক্রমণের ভয় কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি তাঁর ইচ্ছার কাছে। সব অতিক্রম করে পৌঁছেছেন কলকাতায়।
পীযুষ বলেন, ‘সমস্যার সমাধান না হলে আবার আসব কলকাতা। এবার মালদহ থেকে সল্টলেক রাস্তায় দণ্ডি কাটতে কাটতে আসব।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ