


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বছর দেড়েক আগে তোলা চেয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। গ্রেপ্তারি এড়াতে এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছিলেন বিধাননগর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার সমরেশ চক্রবর্তী। ফের বাগুইআটিতে প্রোমোটারকে মারধরের অভিযোগ উঠল কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে। তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মারধরের ব্যাপারে আক্রান্ত প্রোমোটার কিশোর হালদার বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতে শুক্রবার অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলারকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল ছড়িয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন আক্রান্ত প্রোমোটার।
বছর দেড়েক আগে ৫০ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল সমরেশের বিরুদ্ধে। বাগুইআটির রঘুনাথপুর এলাকায় একটি বহুতল নির্মাণ করেছেন প্রোমোটার কিশোর হালদার। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর নির্মাণ সাইটে কিশোরবাবুকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল কাউন্সিলারের লোকজনদের বিরুদ্ধে। এমনকি, রিভলভারের বাঁট দিয়ে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
কিশোরবাবুর অভিযোগ ছিল, সমরেশ চক্রবর্তী তাঁর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা তোলা চেয়েছিলেন। তা না দেওয়ায় মারধর করে। দেড় বছর আগেই তিনি কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
ওই ঘটনার পর ফের কিশোরবাবুকে মারধর করার অভিযোগ উঠল। তিনি বলেন, আমি বিজেপি করি। বিজেপির বিজয় মিছিলে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফেরার সময় ১০ মে বাগুইআটিতে বাড়ির সামনে কাউন্সিলার সমরেশ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে আমাকে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। আমি কোনোরকমে পালিয়ে বেঁচেছি। এর আগেও ওই কাউন্সিলার আমাকে প্রাণে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। শুক্রবার আমি বাগুইআটি থানায় গিয়ে অভিযোগ করি। এদিনই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশকে ধন্যবাদ।
বিধাননগর কমিশনারেটের এক অফিসার বলেন, পুরানো অভিযোগে চার্জশিট হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত কাউন্সিলারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।