


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে পড়ে ৪৫ লক্ষ টাকা খোয়ালেন লেক এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত এক অধ্যাপক। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে রাজা কুমার ও সুদীপ সাহা নামে দুজনকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে ওই অধ্যাপকের মোবাইলে একটি ক্যুরিয়ার সংস্থার নাম করে ফোন আসে। বলা হয়, তাঁর নামে দুবাই থেকে মুম্বইতে একটি পার্সেল এসেছে। পার্সেলটি তাঁর কি না জানতে চাওয়া হয়। অভিযোগকারী বলেন, এই ধরনের পার্সেলের বিষয়ে কিছু জানেন না। তারপর অভিযুক্তরা আধার নম্বর জানতে চায়। তিনি সেটি দিয়ে বসেন। অভিযুক্তরা বলে সেখানে যে আধার নম্বর রয়েছে তার সঙ্গে ওই অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকের আধার নম্বরের মিল রয়েছে। তারপর তাঁকে ভিডিয়ো কলে আসতে বলে জালিয়াতরা। তিনি তাদের কথামতো ভিডিয়ো কল করলে দেখেন, মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের লোগোর নীচে এক ব্যক্তি বসে রয়েছে। সে জানায়, তাঁর আধার ব্যবহার করে বিভিন্ন অনৈতিক লেনদেন হয়েছে। হাওলার মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার চলেছে। এতে ঘাবড়ে যান অভিযোগকারী। প্রতারকরা বলে, তাঁকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হয়েছে। ফোনে জাল ওয়ারেন্ট কপি পাঠায়। গ্রেপ্তারির হাত থেকে বাঁচতে কী করতে হবে জানতে চান ওই অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। তাঁকে বলা হয়, টাকা দিলে সমস্যা মিটে যাবে। তিনি রাজি হলে কয়েকটি অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠায় জালিয়াতরা। সেখানের ৪৫ লক্ষ টাকা জমা করেন। তারপরে আরও টাকা দাবি করায় তিনি বুঝতে পারেন প্রতারকদের পাল্লায় পড়েছেন। তিনি লেক থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে তদন্তভার নেয় লালবাজার। অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, টাকা জমা পড়েছে কসবা ও যাদবপুর এলাকার দুজনের অ্যাকাউন্টে। তার ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।