Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকায় তৃণমূলের কাউন্সিলার কুহেলি, পাল্টা মামলার হুমকি

ঘটনা নিয়ে আলোড়ন পড়েছে পুরসভা এলাকা জুড়ে। যদিও কুহেলিদেবীর স্পষ্ট কথা, তিনি যোগ্য শিক্ষিকা

অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকায় তৃণমূলের কাউন্সিলার কুহেলি, পাল্টা মামলার হুমকি
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: হাইকোর্টের নির্দেশে আগেই বাতিল হয়েছিল চাকরি। এবারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অযোগ্য শিক্ষকদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে এসএসসি, তাতে নাম রয়েছে রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কুহেলি ঘোষের। তিনি রাজপুরে একটি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। এই ঘটনা নিয়ে আলোড়ন পড়েছে পুরসভা এলাকা জুড়ে। যদিও কুহেলিদেবীর স্পষ্ট কথা, তিনি যোগ্য শিক্ষিকা। তাই এই তালিকার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যাবেন।

Advertisement

জানা গিয়েছে, হাইস্কুলের শিক্ষিকা হওয়ার আগে কুহেলি ঘোষ প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। ২০১৬ সালের চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রাথমিক স্কুল ছেড়ে হাইস্কুলে যোগ দেন তিনি। এসএসসি’র চাকরি দুর্নীতির মামলা নিয়ে যখন হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছিল, তখনই জানা যায়, কুহেলিদেবীর চাকরি আর নেই। তবে তিনি যোগ্য না অযোগ্য, তা তখনও বোঝা যায়নি। শনিবার রাতে এসএসসি তাদের ওয়েবসাইটে ১,৮০৪ জন অযোগ্য শিক্ষকের নাম প্রকাশ করতেই চোখ যায় ৬৪৭ নম্বর সিরিয়ালে। সেখানে জ্বলজ্বল করছে কুহেলি ঘোষের নাম। নিজের নাম ওই তালিকায় দেখে বিস্মিত হন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, কেন আমার নাম অযোগ্যদের তালিকায়, জানি না। আমি নিজের যোগ্যতায় পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি পেয়েছি। আমি যে টাকার বিনিময়ে চাকরি পেয়েছি, এমন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তাহলে কীসের ভিত্তিতে ওই তালিকায় আমার নাম ঢোকানো হয়েছে? এ নিয়ে সোমবারই আদালতে মামলা করব। কুহেলিদেবী তাঁর পুরনো চাকরিতে ফিরতে চেয়ে আবেদন করেছেন বলে খবর। শাসকদলের এই নেত্রী অযোগ্যদের তালিকায় থাকায় বিড়ম্বনায় পড়েছে স্থানীয় নেতৃত্ব। যদিও এ বিষয়ে কিছু বলতে চাইছেন না তাঁরা। তৃণমূলের রাজপুর টাউনের সভাপতি শিবু ঘোষ বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তাই মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
এদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই তালিকা নিয়ে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে শাসকদল। বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই অযোগ্যদের তালিকা ধরে ‘উকুন’ বাছতে শুরু করেছে। তৃণমূলের কোন নেতা এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের নাম রয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তবে অযোগ্যদের নামের পাশে স্কুলের নাম না থাকায় খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি শিক্ষক সংগঠনগুলির। সাধারণ মানুষের একটাই কথা, যোগ্যরা চাকরি পাক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ