Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূল কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ নিমতা থানায়

নিমতা থানায় তৃণমূল কাউন্সিলার সুজয় দাসের বিরুদ্ধে ২৬ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। কী ঘটেছে? বিস্তারিত পড়ুন।

তৃণমূল কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ নিমতা থানায়
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রাতারাতি বিপুল সুদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে প্রতারণার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের এক কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর দমদম পুরসভা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতারিত ব্যবসায়ী নিমতা থানায় ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুজয় দাসের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, সরকারি কমিউনিটি হল ভাড়ায় দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে এই পুরসভার আরেক তৃণমূল কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে। অন্য এক কাউন্সিলারের নামে এলাকায় জমি দখলের অভিযোগ তোলা হয়েছে। শেষ দু’টি ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের না হলেও এলাকায় পোস্টার পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উত্তর দমদম পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালচার মোড় এলাকার বাসিন্দা কৌশিক চট্টোপাধ্যায়। কয়েক বছর আগে তাঁর সঙ্গে উত্তর দমদম পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার সুজয় দাসের পরিচয় হয়। থানায় লিখিত অভিযোগে কৌশিকবাবু বলেছেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁকে ব্যবসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন সুজয়। তারপর কৌশিকবাবুর সঙ্গে সুজয়ের মুখোমুখি আলোচনা হয়। অভিযোগ, কাউন্সিলার সুজয় ১০ দিনের জন্য কৌশিকবাবুর কাছ থেকে ২৬ লক্ষ টাকা চান। ১০ দিন পরে সুদ ও আসল মিলিয়ে তিনি ৩৬ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ওই টাকা তিনি রিয়েল এস্টেটের ব্যবসায় লাগাবেন বলেছিলেন। সেইমতো স্ট্যাম্প পেপারে সমস্ত লেখালেখি ও সইয়ের পর কৌশিকবাবু দু’দফায় ২৬ লক্ষ টাকা দেন। কিন্তু ১০ দিন তো দূরের কথা, মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত পাননি। উলটে অভিযুক্ত কাউন্সিলার নানা অজুহাত দেন। পরে হুমকি পর্যন্ত দেন বলে অভিযোগ। বহু দৌড়ঝাঁপের পর তিনি মোট ১৭ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ফেরত পান। বাকি টাকা ফেরত না পাওয়ায় বহুবার দরবার করলেও ওই কাউন্সিলার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টাকা দেননি বলে অভিযোগ। সরকার পরিবর্তনের পর সুজয়ের খোঁজ না পেয়ে তিনি সোমবার নিমতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কৌশিকবাবু বলেন, আমি প্রলোভনে পড়েই টাকা দিয়েছিলাম। স্ট্যাম্প পেপারে সই ও কাউন্সিলারের ব্যবসা আছে দেখে ভেবেছিলাম তিনি টাকা ফেরত দেবেন। কিন্তু পরে বুঝলাম, আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। তাই বাধ্য হয়ে থানার দ্বারস্থ হয়েছি। 

Advertisement

এই বিষয়ে মতামতের জন্য কাউন্সিলার সুজয়কে ফোন করা হলেও তাঁর মোবাইল বন্ধ ছিল। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ