সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ সরকারি বাড়ি দেওয়ার নামে বেআইনিভাবে উপভোক্তাদের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ছিলই। পাশাপাশি সরকারি সাহায্য আত্মসাৎ থেকে শুরু করে শ্বশুরবাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রিপল উদ্ধার একগুচ্ছ দুর্নীতির অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন ধুলিয়ান পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান। বুধবার গভীর রাতে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার ধৃত জিয়াউরকে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ৫ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। এ প্রসঙ্গে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, হেপাজতে নিয়ে ধৃত কাউন্সিলারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই দুর্নীতির শিকড় কত দূর ছড়িয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতকে হেপাজতো নিয়ে উপভোক্তাদের অভিযোগের বিষয়ে জেরা করবে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাস যোজনায় অনিয়ম এবং সরকারি ত্রিপল চুরির জোড়া অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই ওই কাউন্সিলরের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল এলাকা জুড়ে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি জিয়াউরের শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশের একটি বিশেষ দল। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় স্তূপীকৃত সরকারি শতাধিক ত্রিপল। এই ঘটনার পর থেকেই গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় গা ঢাকা দিয়েছিলেন ওই তৃণমূল কাউন্সিলার। তবে রেহাই পাননি তিনি। গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায়, বুধবার রাতে গোপনে শ্বশুরবাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছেন জিয়াউর। খবর পাওয়া মাত্রই এলাকা ঘিরে ফেলে আচমকা হানা দেয় পুলিশ বাহিনী। তাতেই মিলল সাফল্য হাতেনাতে ধরা পড়েন পলাতক কাউন্সিলার। উল্লেখ্য, বিগত পুরসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। তবে দুর্নীতির জালে ধুলিয়ান পুরসভার জনপ্রতিনিধিদের জড়ানোর ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সারীফ শেখ ওরফে ‘হাড্ডি’ এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রৌশনারা খাতুনের স্বামী তথা প্রাক্তন পুর-প্রশাসক মেহেবুব আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরও একাধিক কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। পরপর জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী নেতাদের পুলিশি জালে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তীব্র শোরগোল পড়েছে সমগ্র ধুলিয়ান ও জঙ্গিপুর মহকুমা জুড়ে। একের পর এক দুর্নীতি উন্মোচিত হওয়ায় স্বভাবতই চূড়ান্ত অস্বস্তিতে তৃণমূল।



