Bartaman Logo
১৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডিম থেরাপি ও মারধরের আশঙ্কায় বোর্ড মিটিংয়ে গরহাজির তৃণমূল কাউন্সিলাররা, পানিহাটির পুরভবনে হাজির কয়েকশো বিজেপি কর্মী

পানিহাটির পুরসভায় বোর্ড মিটিং বাতিল, বিজেপির কর্মীদের হামলার আশঙ্কায় তৃণমূল কাউন্সিলাররা আসতে পারেননি। বিস্তারিত জানুন।

ডিম থেরাপি ও মারধরের আশঙ্কায় বোর্ড  মিটিংয়ে গরহাজির তৃণমূল কাউন্সিলাররা, পানিহাটির পুরভবনে হাজির কয়েকশো বিজেপি কর্মী
  • ১৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বোর্ড মিটিংয়ের দিন সকাল থেকেই পুরসভা চত্বরে হাজির হয়েছিলেন বিজেপির কয়েকশো কর্মী। ফলে মিটিংয়ে ঢোকা তো দূর অস্ত, ডিম ছোড়া, মারধর ও হেনস্তার আশঙ্কায় রাস্তা থেকে ফিরে গেলেন তৃণমূল কাউন্সিলাররা। তাঁরা আসতে না পারায় শেষমেশ বাতিল করা হয়েছে বোর্ড মিটিং। শুক্রবার পুরসভা চত্বরের এই ঘটনায় পানিহাটিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এমনিতেই পুরসভায় চেয়ারম্যান সহ সিআইসি সদস্যরা আসছেন না। ফলে অস্থায়ী কর্মীদের বেতন সহ নানা খাতে অর্থ অনুমোদন আটকে গিয়েছে। ভেঙে পড়েছে নাগরিক পরিষেবা। এই পরিস্থিতিতে আদৌ পুরবোর্ড চলবে, নাকি যে কোনোদিন ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসানো হবে, তা নিয়ে গুঞ্জন তীব্র হয়েছে। 

Advertisement

পানিহাটি পুরসভায় মোট কাউন্সিলারের সংখ্যা ৩৫ জন।  তারমধ্যে একজন সিপিএম ও একজন কংগ্রেসের কাউন্সিলার রয়েছেন। বাকি ৩৩ জনই ছিলেন তৃণমূলের। তাঁদের মধ্যে ১০ জন ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। পুর চেয়ারম্যান জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পুরসভায় আসছেন না। পানিহাটিতেও তিনি নেই। ফোন বন্ধ। ফলে চেয়ারম্যানের কাছে আদৌ ওই কাউন্সিলারদের পদত্যাগপত্র পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে চেয়ারম্যান ছাড়া বাকি সিআইসি সদস্যদের অনেকেই পুরসভায় আসছেন না। শুধুমাত্র ভাইস চেয়ারম্যান সহ কয়েকজন কাউন্সিলার আসছেন। কিন্তু চেয়ারম্যান না থাকায় অস্থায়ী কর্মীদের বেতন সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ভাঙা রাস্তা, জঞ্জাল, জমা জল, পানীয় জলের সমস্যায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এই আবহে শুক্রবার বোর্ড মিটিং ডাকা হয়েছিল। অচলাবস্থা কাটাতে নতুন চেয়ারম্যান গঠনের বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছিল।
এদিন দুপুর ২টোয় বোর্ড মিটিং ছিল। সেই খবর আগেই পৌঁছে যায় বিজেপির কাছে। সকাল ১১টায় বিজেপির কয়েকশো কর্মী গেট থেকে পুরসভার বিভিন্ন ফ্লোরে জড়ো হন। দুপুরে কয়েকজন কাউন্সিলার পুরসভার গেট পর্যন্ত এসে আতঙ্কে বাড়ি ফিরে যান। খবর পেয়ে অনেকেই আর বাড়ি থেকে বের হননি। পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুভাষ চক্রবর্তী বলেন, বিজেপির কয়েকশো কর্মী ডিম, ইট সহ অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে পুরসভায় হাজির হয়েছিল। পুরসভার মূল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা পুরসভায় ঢুকলে হামলা হতে পারত। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। থানায় ফোন করলে পুলিশ জানায়, আমাদের এত বাহিনী নেই। প্রশাসন নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করায় বাধ্য হয়ে বোর্ড মিটিং বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি চিঠি দিয়ে পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারকেও জানানো হয়েছে।
বিজেপি নেতা জয় সাহা বলেন, পুর পরিষেবা ভেঙে পড়েছে। কাউন্সিলাররা এলাকাছাড়া। এদিন কাউন্সিলাররা পুরসভায় আসবেন জেনে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে আমাদের কর্মীরা এলাকার সমস্যার কথা জানাতে পুরসভায় হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু কাউন্সিলাররা কেউ আসেননি। মানুষকে পরিষেবা দিতে না পারলে কাউন্সিলারদের পদত্যাগ করা উচিত। তা না করলে পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসানো উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ