Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাটিগাড়া-২ পঞ্চায়েত পরিচালনায় মনিটরিং কমিটি তৃণমূল কংগ্রেসের, দু’সপ্তাহ পর অনাস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বিক্ষুব্ধদের

তিনটি শর্ত! তাতেই দু’সপ্তাহের লড়াইয়ে ইতি! অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বিক্ষুব্ধদের।

মাটিগাড়া-২ পঞ্চায়েত পরিচালনায় মনিটরিং কমিটি তৃণমূল কংগ্রেসের, দু’সপ্তাহ পর অনাস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বিক্ষুব্ধদের
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: তিনটি শর্ত! তাতেই দু’সপ্তাহের লড়াইয়ে ইতি! অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বিক্ষুব্ধদের। রবিবার দলের শীর্ষ নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মাটিগাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিক্ষুব্ধ সদস্যরা। দলীয় সূত্রের খবর, পঞ্চায়েত পরিচালনায় মনিটরিং কমিটি গঠন, ছাব্বিশের নির্বাচনের পর প্রধান অপসারণ ও পঞ্চায়েত কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার শর্তে জট কেটেছে।

Advertisement

তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা চেয়ারম্যান (সমতল) সঞ্জয় টিব্রেওয়াল অবশ্য বলেন, কয়েকদিন আগেই ওই পঞ্চায়েতে সমস্যা মিটে গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের আগে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান কর্মসূচির অগ্রগতি, সাংগঠনিক অবস্থা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে সেখানে মিটিং করেছি। তাতে পঞ্চায়েতের সর্বস্তরের নেতা, কর্মীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া মিলেছে।
দলের জেলা চেয়ারম্যান যাই বলুন না কেন,দু’সপ্তাহ ধরে তৃণমূলের অন্দরে টানটান উত্তেজনা চলছিল। প্রধানের চেয়ার টিকিয়ে রাখতে কখনও বিক্ষুব্ধদের ঘরে থাবা বসাচ্ছিল পঞ্চায়েতের শাসক গোষ্ঠী। আবার বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী কখনও কৌশলে শাসক গোষ্ঠীর অন্দরে ছোবল বসাচ্ছিল। সদস্যদের গোপন ডেরায় রাখার, প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। তাতে তলে তলে পদ্ম শিবির হাওয়া দিচ্ছিল বলে অভিযোগ।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে এনিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূল। তারা সেই জট কাটাতে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে। দলীয় সূত্রের খবর, দলের জেলা চেয়ারম্যান ছাড়াও শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ, মহকুমা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস সহ দলীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা ও দলের অঞ্চল কমিটির নেতারা হাজির ছিলেন। বিধানসভা ভোটের আগে প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ করা যাবে না বলে বৈঠকে সাফ জানায় জেলা নেতৃত্ব। তখন বিক্ষুব্ধ নেতারা কিছু শর্ত দেন। যার মধ্যে জেলা নেতৃত্ব তিনটি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। তাতেই গলে ক্ষোভের বরফ।
রবিবার বৈঠকের পর সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শিবন বিশ্বাস বলেন, পঞ্চায়েতের বর্তমান পরিচালন বোর্ডের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। তাই ছাব্বিশের নির্বাচনের পর প্রধান অপসারণ, বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় পঞ্চায়েতের দু’জন কর্মীকে সরানো এবং পঞ্চায়েত পরিচালনায় ছ’জনের মনিটরিং কমিটি গঠনের শর্ত নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে। মনিটরিং কমিটিতে দলের জেলা চেয়ারম্যান, মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি, পঞ্চায়েতের তিন জন সদস্য, দলের অঞ্চল সভাপতি রয়েছেন। এখন থেকে এই কমিটিকে না জানিয়ে পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিল খরচ করতে পারবেন না প্রধান। সংশ্লিষ্ট কমিটি উন্নয়নমূলক কাজকর্ম তদারকি করবে। তাই দলের স্বার্থে অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২১ আগস্ট দলের জেলা কোর কমিটির বৈঠক থেকে বেরিয়েই প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব বিডিওর কাছে পেশ করেছিলেন ১৩ জন পঞ্চায়েত সদস্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ