Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বাধীনতার লড়াইয়ে নেতাজির ছায়াসঙ্গী কাটোয়ার শ্যামরঞ্জন

গোটা দেশ তখন স্বাধীনতা আন্দোলনে উত্তাল। ইংরেজরাও বিপ্লবীদের আন্দোলনকে স্তব্ধ করার জন্য নানা উপায় নিয়েছিল

স্বাধীনতার লড়াইয়ে নেতাজির ছায়াসঙ্গী কাটোয়ার শ্যামরঞ্জন
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া:  গোটা দেশ তখন স্বাধীনতা আন্দোলনে উত্তাল। ইংরেজরাও বিপ্লবীদের আন্দোলনকে স্তব্ধ করার জন্য নানা উপায় নিয়েছিল। বাধ্য হয়েই গোপনে বাংলা তথা দেশের লক্ষ লক্ষ বিপ্লবীরা আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতেন। অনেক সময় গোপন ডেরায় তাঁরা আত্মগোপন করেই দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য মিটিং করতেন। কাটোয়া শহরের স্বাধীনতা সংগ্রামীরাও দেশের স্বাধীনতা আনার জন্য লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। তারমধ্যে অন্যতম ছিলেন শ্যামরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। কাটোয়া শহরের কাছারিপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন শ্যামরঞ্জনবাবু। তিনি কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করতেন। তখনই তিনি দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯২৮ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের ৪৩তম অধিবেশনে তিনি  যোগ দেন  বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স কর্পসে। পরে ‘বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স’ দলে নাম লেখান। আর তাই কাটোয়া শহরে নেতাজির থাকাকালীন তাঁর সাহচর্য লাভ করেন তিনি। ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম ঠাঁই না পেলেও কাটোয়ার বাসিন্দারা স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর অবদান মনে রাখেন। 

Advertisement

কাটোয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য ১৯৩১ সালের ডিসেম্বর মাসে শহরে পদধূলি দেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তখন তিনি তিনদিনের জন্য এসে ছিলেন কাটোয়া শহরের কাশীগঞ্জ পাড়ায়। বর্তমানে সেটি ‘নেতাজিসুভাষ আশ্রম’ নামে পরিচিত। সেখানেই তিনি বিপ্লবীদের নানা পরামর্শ দেন। গুরুত্বপূর্ণ মিটিং করেন। নেতাজি থাকাকালীন সেসময় অন্যান্য বিপ্লবীদের পাশাপাশি তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিলেন আর এক স্বাধীনতা সংগ্রামী শ্যামরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর নাতি সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিপ্লবী শ্যামরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় নেতাজির খুব কাছের মানুষ ছিলেন। কাটোয়া শহরে নেতাজির আসার পিছনে অন্যদের পাশাপাশি শ্যামরঞ্জনবাবুর ভূমিকাও কম ছিল না। নেতাজি কাটোয়া শহরে যে বাড়িতে এসেছিলেন, সেখানেই এখন সুভাষ আশ্রম গড়ে উঠেছে। যদিও সেটি এখন ভগ্নপ্রায়। নেতাজি কাটোয়া শহরে এসে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আরও উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। বিপ্লবীদের এইসব ডেরায় গিয়ে তাঁদের উদ্বুদ্ধ করতেন নেতাজি স্বয়ং। এদিকে নেতাজি কাটোয়া শহরের যে ‘সুভাষ আশ্রমে’ এসে ছিলেন, আজ তা ভগ্নপ্রায়। বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে সংস্কারের অভাবে। ট্রাস্টি বোর্ডের এক সদস্য জানান, নেতাজির এই স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি সংস্কার করে রিসার্চ সেন্টার গড়া হোক। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ