নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: এনআরএস হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স রুপালি বর্মণের মৃত্যুর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুললেন বাবা অর্জুনচন্দ্র বর্মন। একই দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারাও। রুপালির বাড়ি পটাশপুর-২ ব্লকের পশ্চিম সাউথখণ্ড গ্রামে। ৮০ বছরের বৃদ্ধ অর্জুনচন্দ্রবাবু ছোট মৎস্য ব্যবসায়ী। দুই দাদা চন্দন ও আনন্দ সেই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রুপালি ছোট থেকে পড়াশোনায় বেশ ভালো। স্থানীয় বাগমারি গালর্স হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক ও টিকরাবাড় এএম হাইস্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর জেনপা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিএসসি নার্সিং কোর্স করেন। প্রায় পাঁচ বছর মুর্শিদাবাদের একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নার্সিং স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিন বছর হল এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কাজ করছিলেন। বুধবার রাতে কর্মরত অবস্থায় তিনি বাথরুমে যান। সেখান থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। কীভাবে রুপালির মৃত্যু হল তানিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন অর্জুনচন্দ্রবাবু। বৃহস্পতিবার নিজের বাড়িতে কান্নাভেজা গলায় তিনি বলেন, রাত ১২টা নাগাদ মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কীভাবে সে মারা গেল, বুঝতে পারছি না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আর্জি জানাচ্ছি।’ রাতে একমাত্র বোনের মৃত্যুর খবর পেয়েই কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে নিজে ভালোবেসে রাহুল দাস নামে এক যুবকের সঙ্গে আইনি বিয়ে করেন রুপালি। ২০২৫ সালে ১০ মার্চ সামাজিক অনুষ্ঠান হয়। দমদম ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় স্বামীর সঙ্গে থাকতেন রুপালি। বুধবার তাঁর নাইট ডিউটি ছিল। রাত ৮টায় যোগ দেন। তারপর অনেক রাতে কর্তব্যরত অবস্থায় বাথরুম থেকে রূপালির দেহ উদ্ধার হয়। বিএসসি নার্সিং করার পর তিনি এমএসসিও করেছেন। কলকাতার একটি ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা ছিল রুপালির। ১৫ দিন আগে পটাশপুরের বাড়িতে এসে সেই ইচ্ছার কথা বাবা-মায়ের কাছে বলেছিলেন। এজন্য বাবার কাছে কিছু আর্থিক সহযোগিতাও চেয়েছিলেন। মা হাজিবালা বর্মণ মেয়েকে দু’লক্ষ টাকাও দিয়েছিলেন।
রুপালির দাদা চন্দন বলেন, ‘আমি প্রায় ২৫দিন আগে বোনের বাসায় গিয়েছিলাম। বোন ও ভগ্নিপতি দু’জনেই ছিল। একরাত ওদের বাসায় কাটিয়ে বাড়ি ফিরি। তারপর আমার শ্যালকের ছেলের কিছু ওষুধ নিয়ে বোনের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। হঠাৎ করে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, বুঝতে পারছি না। আমরা চাই, প্রকৃত তদন্ত হোক। মৃত্যুর কারণ সামনে আসুক।’
পশ্চিম সাউথখণ্ড এলাকার বাসিন্দারাও চাইছেন, তাঁদের গ্রামের একদা কৃতী ছাত্রী কলকাতার নামী হাসপাতালে নার্স হিসেবে ডিউটিরত অবস্থায় কীভাবে মারা গেলেন তার তদন্ত হোক। আরজি কর হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারকে নিগ্রহ করে খুনের ঘটনায় আজও বিচার অধরা। তারমধ্যেই এনআরএসে রুপালির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা হাসপাতালের সুরক্ষা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিল।