Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মারনাইয়ের তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলেন দলেরই সদস্যরা

রাজ্যে ক্ষমতা হারাতেই মারনাই গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে।

মারনাইয়ের তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলেন দলেরই সদস্যরা
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ইটাহার: রাজ্যে ক্ষমতা হারাতেই মারনাই গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে। চুপিসারে তৃণমূলের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলেন দলেরই সংখ্যাগরিষ্ঠ পঞ্চায়েত সদস্য। বৃহস্পতিবার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়েছে ইটাহারে।

Advertisement

ইটাহার ব্লকে ১২ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১১ টিই তৃণমূলের দখলে। রাজ্যে পালাবদলের পর দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন। এবার মারনাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকে সরাতে অনাস্থা প্রস্তাব আনলেন তৃণমূলেরই সদস্যরা। সংখ্যাগরিষ্ঠ পঞ্চায়েত সদস্য চুপিসারে ইটাহার বিডিও অফিসে গিয়ে প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছেন। যদিও প্রধান আঞ্জুরা বিবির দাবি, আমার দিকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য রয়েছেন। সদস্যদের সই জাল করে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে। এবিষয়ে ইটাহারের বিডিও দিব্যেন্দু সরকার বলেন, অনাস্থা প্রস্তাব পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মারনাই গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৬ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল জয়ী হয় ২২ টিতে। কংগ্রেস পায় ৩ টি এবং নির্দল ১ টি। কিন্তু পরে বিরোধী পঞ্চায়েত সদস্যরাও তৃণমূলে যোগ দেন। ফলে ২৬ টি আসনই তৃণমূলের দখলে চলে যায়। পালাবদল হতেই প্রধানকে সরাতে তত্পর হয়েছেন দলেরই পঞ্চায়েত সদস্যরা। গত বুধবার পঞ্চায়েত প্রধান আঞ্জুরা বিবির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন ১৭ জন পঞ্চায়েত সদস্য। তাঁরা ইতিমধ্যে প্রধানকে সরাতে বিডিও অফিসে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছেন। বিদ্রোহী পঞ্চায়েত সদস্যা আম্মারা খাতুন বলেন, প্রধান একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন। আমরা উন্নয়নের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আরেক পঞ্চায়েত সদস্য বিট্টু দাস বলেন, পুকুর টেন্ডার, সরকারি অর্থ অনিয়ম সহ একাধিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রধান। দুর্নীতির প্রতিবাদ করেও কোনো কাজ হয়নি। তাই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছি আমরা। 
তৃণমূলের কোন্দলে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। দলের ৩ নম্বর মণ্ডল ইনচার্জ গোকুল মণ্ডল বলেন, ওই পঞ্চায়েতে আমাদের কোনো পঞ্চায়েত সদস্য নেই। আসলে কাটমানির ভাগাভাগি নিয়ে তৃণমূলের অন্তর্কলহ চলছে। এনিয়ে বিজেপির মাথা ব্যথা নেই। তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সহ সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার বিষয়টি জানা নেই। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ