Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুগলির কৃষিবলয়ে টিকিট বিলিতে বর্তমান বিধায়কদের উপরেই ফের আস্থা তৃণমূলের

হুগলিতে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বদলের হাওয়া তীব্র। হুগলির কৃষিবলয়ে সেই বদলের তেমন প্রভাব না পড়লেও অন্যত্র তার ছাপ স্পষ্ট

হুগলির কৃষিবলয়ে টিকিট বিলিতে বর্তমান  বিধায়কদের উপরেই ফের আস্থা তৃণমূলের
  • ১৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলিতে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বদলের হাওয়া তীব্র। হুগলির কৃষিবলয়ে সেই বদলের তেমন প্রভাব না পড়লেও অন্যত্র তার ছাপ স্পষ্ট। কৃষিবলয়ের কেন্দ্রগুলিতে বাধ্যতামূলক কিছু পরিস্থিতি ছাড়া প্রার্থী বদল করা হয়নি। জেলার ভৌগোলিক অবস্থার নিরিখে বলা যায়, জাতীয় সড়কের একদিকে যেমন তীব্র বদলের হাওয়া, উলটোদিকে সেই হাওয়ার দাপট প্রায় নেই। বলাগড় ও পাণ্ডুয়ায় প্রার্থী বদল করা হয়েছে বাধ্য হয়েই। তাছাড়া জাঙ্গিপাড়া থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত কৃষিবলয়ে গতবারের প্রার্থীরাই টিকিট পেয়েছেন এবারের ভোটে।

Advertisement

রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, কৃষিভিত্তিক রাজনীতি তথা মেঠো রাজনীতির মুখ হয়ে ওঠা নেতাদের বদলাতে চাননি দলনেত্রী। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ভোটে তা কতটা সুবিধা বা অসুবিধা তৈরি করবে, সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। কিন্তু দলের প্রার্থী তালিকায় নতুনের জয়গানের পাশাপাশি নিখাদ মেঠো মুখকে রেখে দিয়ে বাজিমাতের চেষ্টা করেছে ঘাসফুল শিবির। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। হুগলির ভৌগোলিক চিত্রকে জিটি রোড ও জাতীয় সড়ক দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি, কৃষি ও শিল্পবলয় দিয়ে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াও খুব জনপ্রিয়। মঙ্গলবার তৃণমূল যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে পুরানো ও দাপুটে বহু মুখ বাদ পড়েছে। তেমনই পুরানো বেশ কিছু প্রার্থী রয়েও গিয়েছেন। মুখ বদলের প্রক্রিয়া শিল্পবলয়ে যতটা প্রবল, ততটাই ম্রিয়মান কৃষিবলয়ে। হুগলির দু’টি কৃষিবলয়ের অন্যতম এলাকা সিঙ্গুর, হরিপাল, তারকেশ্বর, বলাগড়, জাঙ্গিপাড়া, পাণ্ডুয়া এবং আংশিকভাবে চণ্ডীতলা। এবারের প্রার্থী তালিকায় এইসব কেন্দ্রের মধ্যে শুধু বলাগড় ও পাণ্ডুয়ার প্রার্থী বদল করা হয়েছে। বলাগড়ের বিদায়ী বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর সঙ্গে দলের বনিবনা হচ্ছিল না। প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে তাঁর যোগও ছিল না। ফলে সেখানে প্রার্থী বদল অবধারিত ছিল। দলের মেঠো রাজনীতির দুই মুখ বেচারাম মান্না ও অসীমা পাত্র নিজেদের গতবারের জেতা আসন সিঙ্গুর ও ধনেখালিতে প্রার্থী হয়েছেন। দু’জনেই পুরানো নেতানেত্রী। একইসঙ্গে কৃষিবলয়ের রাজনীতিতে অভিজ্ঞ। সিঙ্গুর আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গেও তাঁদের যোগ সুবিদিত। বেচা-ঘরণী করবী মান্নাকে গতবার তৃণমূল হরিপালে প্রার্থী করেছিল। তিনি গ্রামীণ রাজনীতিতে অভিজ্ঞ। একই কথা খাটে জাঙ্গিপাড়ার স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও চণ্ডীতলার স্বাতী খোন্দকার সম্পর্কেও। তাঁদেরও দল ফের পুরানো আসনে প্রার্থী করেছে। তারকেশ্বরের রামেন্দু সিংহরায় মেঠো রাজনীতির মানুষ। গতবারই প্রথম তাঁকে তারকেশ্বরে প্রার্থী করা হয়েছিল। জিতেও ছিলেন। এবারও তাঁকে সেই আসনেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল।

সম্পর্কিত সংবাদ