Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে ধৃত তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি

চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় আঁটিয়াবাড়ি-২ অঞ্চল সভাপতি আব্দুল মান্নান ওরফে মান্নের বিরুদ্ধে।

যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে ধৃত তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দিনহাটা: চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় আঁটিয়াবাড়ি-২ অঞ্চল সভাপতি আব্দুল মান্নান ওরফে মান্নের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নেতার বাড়ির কাছেই ওই মহিলার বাপেরবাড়ি। প্রাইমারি স্কুলে চাকরির ইন্টারভিউয়ের নাম করে একটি বাড়িতে নিয়ে যান ওই মহিলাকে। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার মধ্যরাতে মান্নেকে গ্রেপ্তার করে মহিলা থানা। এদিকে, মহিলা থানার পাশেই দিনহাটা থানায় রাখা হয়েছিল অভিযুক্তকে। মঙ্গলবার ভোরে পোশাক পরিবর্তনের নাম করে তিনি চম্পট দিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে ফের তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। 

Advertisement

মহিলার পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতিতার বাবার কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন আব্দুল মান্নান। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকার চাকরি দেওয়ার নাম করে ওই টাকা নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও চাকরি না হওয়ায় নির্যাতিতার পরিবার টাকা ফেরত চাইলে মান্নে টালবাহানা শুরু করেন। অভিযোগ,এরপর, গত ১৪ মার্চ তিনি ওই মহিলাকে চাকরির ইন্টারভিউয়ের কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান এবং দিনহাটার ঝুড়িপাড়ার একটি ফাঁকা বাড়িতে তাঁকে ধর্ষণ করেন। শুধু তাই নয়, নির্যাতিতার নগ্ন ছবি ও ভিডিও মোবাইল ফোনে তুলে রাখেন। এরপর তাঁকে শাসানো হয়, যদি টাকা ফেরত চাওয়া হয় তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। নির্যাতিতা ও তাঁর বাবা দিনহাটা মহিলা থানায় মান্নের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস রাতেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তবে ভোরে জামাকাপড় পরিবর্তনের নাম করে থানার হেফাজত থেকে পালিয়ে যান তিনি। পরে ফের তাঁকে ধরে নিয়ে আসে পুলিস। 
মঙ্গলবার অভিযুক্তকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হলে পুলিস হেফাজত থেকে পালানোর মামলায় জামিন পান তিনি। তবে ধর্ষণের মামলায় একদিনের জেলে হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। আজ, বুধবার ফের তাঁকে আদালতে তোলা হবে। 
তবে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা আব্দুল মান্নান দাবি করেন, তিনি রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার এবং পারিবারিক বিবাদকে ধর্ষণের মামলা হিসেবে দেখানো হয়েছে। দিনহাটা মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী শুভব্রত বর্মন বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা রুজু হয়েছে। থানার হেফাজত থেকে পালানোর মামলায় জামিন পেলেও, ধর্ষণের মামলায় তাঁর জেল হেফাজত হয়েছে। বুধবার ফের তাঁকে আদালতে তোলা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ