নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব জিইয়ে রয়েছে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলায়। বারে বারে তা প্রকাশ্যেও এসেছে। সম্প্রতি বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠকে পরিবর্তন করা নিয়ে তা চরমে। এক্ষেত্রে সরাসরি অভিযোগের তির তৃণমূলের অপর গোষ্ঠীর দিকে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঠেকাতে তৃণমূল সুপ্রিম আজ, মঙ্গলবার বনগাঁয় এসে কী বার্তা দেন, সেদিকেই নজর নেতা-কর্মীদের। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সবার ঊর্ধ্বে দল, সেকথা এদিন ফের স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন ‘বাংলার অগ্নিকন্যা’।
গত নির্বাচনের প্রচারে বনগাঁয় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় প্রয়াত বিধায়ক ভূপেন শেঠের প্রশংসা করতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে। এবার বছর ঘুরলে আরও একটি বিধানসভা নির্বাচন। বনগাঁ উত্তর, দক্ষিণ থেকে গাইঘাটা ও বাগদা কেন্দ্রে মতুয়াদের বসবাস বেশি। মতুয়া ভোট এই কেন্দ্রগুলিতে নির্ণায়ক। এসআইআরের আবহে মঙ্গলবার মতুয়াগড় বনগাঁ ও চাঁদপাড়ায় জোড়া কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে কাজিয়া সর্বজনবিদিত। জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসকে মেনে নিতে পারেন না দলের একটি বড় অংশ। কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, সভাপতি সঠিকভাবে সংগঠন চালান না। আবার মমতা ঠাকুরের বিরুদ্ধেও রয়েছে একই অভিযোগ। সেই পর্বে সংযোজন বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান বদল। এ নিয়ে গত ১৮ দিন ধরে অস্থির পরিস্থিতি চলছে বনগাঁয়। অভিযোগ, চেয়ারম্যান গোপাল শেঠের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পুরসভার মহিলা কাউন্সিলার সহ গোপাল ঘনিষ্ঠদের বাড়িতে সম্প্রতি তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতীরা। গুলি, বোমাবাজি কিছুই বাদ যায়নি। এক্ষেত্রে সরাসরি নাম জড়িয়েছে বিশ্বজিতের অনুগামীদের। চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ এখন কলকাতার এক বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। এই ইস্যুতে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব আড়াআড়ি বিভক্ত। তৃণমূলের অন্দরেই শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব। এক মেরুতে রয়েছেন তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস, অন্যদিকে পুর চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ। আবার চেয়ারম্যানের পাশে রয়েছেন বেশ কয়েকজন কাউন্সিলার। আর তাঁদের সঙ্গ দিচ্ছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর। বিশ্বজিৎ দাসের সঙ্গে আবার মমতা ঠাকুরের সম্পর্ক ভালো নয়। বনগাঁয় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন নয়। গত নির্বাচনগুলিতে তৃণমূলের বিজয়রথ বনগাঁয় এসে মুখ থুবড়ে পড়ে। এক্ষেত্রে হারের কারণ হিসেবে উঠে আসে দলীয় কোন্দল।
মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে মমতা ঠাকুর চেয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী ঠাকুরবাড়িতে আসুক। কিন্তু দলের একাংশ তাতে সম্মতি দেয়নি বলেই সূত্রের খবর। ফলে, পদযাত্রা করেই ফিরবেন মুখ্যমন্ত্রী। এ নিয়ে বিশ্বজিৎ দাস বলেন, এসআইআর নিয়ে নেত্রীর বার্তা শুনতে মতুয়ারা উদগ্রীব। বনগাঁ পুরসভার পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যদি কিছু বলেন, সেটা সবাই জানতে পারবেন। মমতা ঠাকুর বলেন, যদি সুযোগ হয়, তাহলে বনগাঁর পরিস্থিতির কথা নেত্রীকে জানাব।