


গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক কুমার লাহিড়ী। এক সময় ভারত সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছেন। বালুরঘাট বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলে গত ৫ বছরে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। তার মধ্যে খরচ করেছেন ৩ কোটি ২৭ লক্ষ ১০ হাজার ৯৭ টাকা।
অশোকের সময়কালে বালুরঘাট বিধানসভা জুড়েই রাস্তা থেকে পানীয়জল, স্মার্ট ক্লাস থেকে সোলার লাইটের মত বহু কাজ হয়েছে শহরে ও গ্রামে। তবে, উল্লেখযোগ্য অনেক কাজই হয়নি বলেই অভিযোগ একাংশ বাসিন্দার। মেডিকেল কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, এয়ারপোর্ট, সীমান্তের হাট, হিলিতে ফায়ার স্টেশন সহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ তাঁকে করতে দেওয়া হয়নি বলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন বিধায়ক।
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের শাসক দলের দাবি, অশোক বিধায়ক হিসেবে কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। চেষ্টাও করেননি। সেজন্য রাজ্যের উপর দোষ চাপানো হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে উন্নয়ন-অনুন্নয়নের বাকযুদ্ধে রীতিমতো সরগরম বালুরঘাটের রাজনীতি।
অশোকের কথায়, সামান্য টাকা পেয়েছিলাম। তা দিয়ে বিধানসভার সব জায়গায় সমান কাজ করার চেষ্টা করেছি। হিলি রেল প্রকল্পের স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। এই প্রকল্পের বরাদ্দের সময় তদারকি করেছি। তবে, অনেক ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার সহযোগিতা করেনি। মেডিকেল কলেজ, কর্মসংস্থানের জন্য সীমান্তের হাট, ফায়ার স্টেশন ইত্যাদি নিয়ে একাধিকবার দাবি জানালেও সহযোগিতা করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় হলেও তা সম্পূর্ণ নয়।
অশোক বালুরঘাটে বেশি সময় দেননি বলে বার বার অভিযোগ করেছিল তৃণমূল। তার পাল্টা অশোকের মন্তব্য, বিধানসভা কলকাতায়, মুখ্যমন্ত্রীও কলকাতায় থাকেন। তাই আমাকেও সেখানে যেতে হয়। বালুরঘাটে যখনই আসি, মানুষের সঙ্গেই থাকার চেষ্টা করি। বালুরঘাটের মানুষ শিক্ষিত এবং সংস্কৃতিমনস্ক। এসব তাঁরা ভালোই বোঝেন। তৃণমূলের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিতে মানুষ ক্ষিপ্ত।
পাল্টা তৃণমূলের টাউন সভাপতি সুভাষ চাকীর মন্তব্য, বিধায়ক তাঁর তহবিলের টাকায় কোথায় কাজ করেছেন, কেউ জানি না। বালুরঘাটের মানুষের জন্য কিছুই করেননি। কর্মসংস্থান থেকে সৌন্দর্যায়ন, এডুকেশন হাব সহ অনেক কিছু করতে পারতেন। কেন্দ্র থেকে অর্থ এনে এখানে স্মার্ট সিটিও করা যেত। মেডিকেল কলেজ, বর্ডার হাট সহ যে সমস্ত বিষয়ের কথা তিনি বলছেন, কখনই তা নিয়ে উদ্যোগ নেননি। এতদিন বালুরঘাটে দেখতাম না। ভোট এসেছে বলেই দেখা গিয়েছে।
তবে, অনেক কিছুই না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েছে বালুরঘাটবাসীর। বালুরঘাটের এক শিক্ষক মনোজ চৌধুরী বলেন, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এয়ারপোর্ট সহ অনেক কিছুই পাইনি। সীমান্তের হাট হলে অনেক কর্মসংস্থান হতো। এমনকি আত্রেয়ী নদীর জন্য কিছুই করতে দেখা যায়নি।
অশোক জানিয়েছেন, বিধায়ক তহবিলের গ্রাম ও শহরের জন্য বহু রাস্তা, প্রায় প্রত্যেকটি বুথে দু’শোর বেশি সোলার লাইট বসানো, একাধিক নতুন শ্মশান, চারটি স্কুলে স্মার্ট ক্লাস, স্কুলের স্টেজ নির্মাণ ও পানীয় জলের প্রকল্প, কৃষকদের জন্য সাবমার্সিবল পাম্প সহ নানা কাজ করা হয়েছে। এছাড়াও নতুন দু’টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।