


কাজল মণ্ডল, ইসলামপুর: নির্বাচনের ঠিক আগে ডালখোলা প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গেটে ‘সাইট ফর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল’ বোর্ড ঝুলিয়ে জনতাকে ভাঁওতা দিয়েছিলেন করণদিঘির প্রাক্তন বিধায়ক ও এবারের তৃণমূল প্রার্থী গৌতম পাল। এমনই অভিযোগ করল বিজেপি ও সিপিএম নেতৃত্ব।
স্থানীয় বিধায়ক বিজেপির বিরাজ বিশ্বাস বলেন, বোটের আগে মানুষকে বোকা বানানোর জন্য এসব করা হয়েছিল। সেখানে হাসপাতাল করার কোনো নির্দেশ পাশ হয়নি। পশু হাসপাতালের পুরাতন বিল্ডিংও ভাঙা হয়েছে। অন্যদিকে, ওই স্থানের গাছপালা কেটে পরিবেশ নষ্ট করেছে। এবিষয়ে মামলা হওয়া উচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মার্চে ডালখোলার প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্র চত্বরে থাকা পুরনো একটি বিল্ডিং ভেঙে দেওয়া হয়। তৎকালীন বিধায়ক গৌতম উপস্থিত ছিলেন সেই সময়। কিছুদিন পর প্রাণী চিকিৎসাকেন্দ্র নিচিতপুরে স্থানান্তরিত করা হয়। সেই গেটেই ‘সাইট ফর ডালখোলা স্টেট জেনারেল হাসপাতাল’ বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিরোধীরা তখন নির্দেশ ছাড়াই সরকারি সম্পত্তি ভাংচুর এবং গাছ কাটার অভিযোগ তুলেছিল। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছিল, জেলা পরিষদের জমিতে প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্রটি চলছিল। স্টেট জেনারেল হাসপাতালের জন্য জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় সিপিএম নেতা তথা জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য সুরজিৎ কর্মকার বলেন, ডালখোলায় স্টেট জেনারেল হাসপাতাল করার বিষয়ে সরকারি নির্দেশ নেই। জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছিলাম। তিনিও উত্তর দিতে পারেনি। নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষকে ভাঁওতা দেওয়ার জন্যই এসব করেছিলেন তৎকালীন বিধায়ক।
প্রাক্তন বিধায়ককে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও উত্তর দেননি। তৃণমূলের ডালখোলা টাউন সভাপতি বিকি দত্ত বলেন, হাসপাতালের অনুমোদন হয়েছে কি না, সেটি গৌতমবাবুই বলতে পারবেন।
ডালখোলা শহরে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা বলতে একটি মাত্র প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে।
অবস্থা সামান্য জটিল হলেও রোগীকে রেফার করা হয়। তাই বাসিন্দারা হাসপাতালের দাবি তুলেছেন। বর্তমান বিধায়ক বিরাজ বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো এবং পরিষেবার উন্নয়ন করা হবে। সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।