Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরন্দরপুরে তৃণমূল নেতাদের সামাজিক বয়কটের ডাক

এক সময়ে তৃণমূলের দুর্ভেদ্য গড় সিউড়ি-২ ব্লকে দাপুটে নেতাদের এমন ‘সামাজিক বয়কট’-এর ডাক বেনজির বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

পুরন্দরপুরে তৃণমূল নেতাদের সামাজিক বয়কটের ডাক
  • ১৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: শুক্রবার সকালে পুরন্দরপুর পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন মোড়ে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অশ্বিনী মণ্ডলের চটির মালা গলায় ছবি সংবলিত পোস্টার ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পোস্টারে দুই নেতাকে বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এক সময়ে তৃণমূলের দুর্ভেদ্য গড় সিউড়ি-২ ব্লকে দাপুটে নেতাদের এমন ‘সামাজিক বয়কট’-এর ডাক বেনজির বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

শুক্রবার ভোরে পুরন্দরপুর হাটতলা, বোলপুর-আমেদপুর মোড় ও পঞ্চায়েত অফিস চত্বর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ওই বিতর্কিত পোস্টারগুলি চোখে পড়ে। চটির মালা পরা ছবির নীচে লেখা হয়েছে— ‘২০২১-এর ভোট পরবর্তী হিংসার কারিগর, বহিরাগত ও আতঙ্কবাদী ব্যক্তিদের পুরন্দরপুর থেকে সামাজিকভাবে বয়কট করুন।’ প্রকাশ্য রাস্তায় দলের হেভিওয়েট নেতাদের এমন অবমাননাকর ছবি দেখে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, এলাকাকে নতুন করে অশান্ত করতে এই কুরুচিকর চক্রান্ত ফেঁদেছে বিজেপি।
তৃণমূলের সিউড়ি ২ নম্বর ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলাম এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে কাপুরুষের মতো কে বা কারা ওই পোস্টার দিয়েছে জানি না। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনো হিংসার ইতিহাস নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এলাকায় অশান্তি ছড়াতে যারা এই কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি থানায় অভিযোগ জানিয়েছি।’ অন্যদিকে পুরন্দরপুর অঞ্চল সভাপতি শেখর মালের সাফ দাবি, ভোটের পর বিজেপিই এলাকায় সন্ত্রাস ছড়াতে এই ধরনের নোংরা রাজনীতি করছে। তবে এই ঘটনায় পদ্মশিবির শাসকদলের ঘরোয়া কোন্দলকেই দায়ী করেছে। বিজেপির সিউড়ি ২ ব্লকের সাঁইথিয়া (৬) মণ্ডলের সভাপতি উৎপল হরির কটাক্ষ, ‘এই পোস্টারের সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে পোস্টারের বয়ানে কোনো ভুল নেই। একুশের নির্বাচনের পর যাদের নেতৃত্বে এলাকায় রক্ত ঝরেছিল, মানুষ আজ তাদের চিনে নিচ্ছে। জনরোষের এই বহিঃপ্রকাশের দায় বিজেপির ওপর চাপিয়ে লাভ নেই। পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।’
একদা যে অঞ্চলে নুরুল ইসলাম বা অশ্বিনী মণ্ডলের অঙ্গুলি হেলনে বাঘে গোরুতে এক ঘাটে জল খেত, সেখানে তাঁদের এমন ‘বয়কট’-এর ডাক দেওয়ার সাহস কে দেখাল, তা নিয়ে রীতিমতো ধন্দে পুলিশ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই নীচুতলায় দাপুটে নেতাদের যে রাশ আলগা হচ্ছে, এই পোস্টার তারই প্রমাণ। আপাতত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে এলাকার সিসি টিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় পুরন্দরপুর এলাকায় তৃণমূলের অন্দরে যে অস্বস্তি বাড়ছে, তা স্পষ্ট।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ