


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বৃহস্পতিবার ২১ মে প্রশাসনিক বৈঠক করতে দুর্গাপুরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া, এই পাঁচ জেলার প্রশাসন, পুলিশ আধিকারিক, বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করার কথা রয়েছে নব নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর। রাজ্য রাজনীতিতে এই পাঁচ জেলার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলে শিল্পায়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের মানুষ। পাশাপাশি এই এলাকাই বালি ও কয়লা কারবারের স্বর্গরাজ্য হিসাবে পরিচিত। শুভেন্দু এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে কী বার্তা দিচ্ছেন, সেদিকেও বাসিন্দাদের নজর থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক নিয়ে তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। এখনও পর্যন্ত বৈঠকের স্থান নির্দিষ্ট না হলেও দুর্গাপুরের সৃজনী হলেই তা হওয়ার সম্ভাবনা বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। কী কী কাজ কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা রিভিউ বৈঠকের আগে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকরা খতিয়ে দেখছেন। পুলিশ মহলেও শুরু হয়েছে তৎপরতা। বিভিন্ন মামলার গতিপ্রকৃতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে। তা নিয়েও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক রিভিউ বৈঠকগুলি দুর্গাপুরেই হত। যদিও শেষ কয়েক বছর এখানে এসে রিভিউ বৈঠক করেননি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকের মতে, যার জেরে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাজেও শিথিলতা শুরু হয়েছিল। নতুন সরকার গঠনের পর যে ভাবে একের পর এক দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ শুরু হয়েছে, তাতে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে, তা অনেকেই মনে করছেন।
ভোটে এই পাঁচ জেলায় বিজেপি অভূতপূর্ব ফল করেছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমানে তৃণমূল কংগ্রেস কোনো আসনেই জিততে পারেনি। পূর্ব বর্ধমানে মাত্র দু’টি আসন তৃণমূল পেয়েছে। বীরভূমেও সিংহভাগ আসন বিজেপির দখলে। তাই গেরুয়া অধ্যুষিত এই এলাকা মুখ্যমন্ত্রীর থেকে কোনো বিশেষ উপহার পায় কি না, সেটাও দেখার।
জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, ২১ মে মুখ্যমন্ত্রীর দুর্গাপুরে পাঁচ জেলাকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা। বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের আগেই আজ, শনিবার জেলার বিধায়কদের সঙ্গে জেলাশাসক বৈঠক করতে চলেছেন। জেলাশাসকের অফিসে নব নির্বাচিত সব বিধায়ককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেখানে জেলাশাসক ছাড়াও জেলার শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বিধায়কদের পরিচয় করানো হবে। তারপরই প্রতি বিধানসভা ধরে ধরে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ চলছে, তা বিধায়কদের অবগত করা হবে। যাতে প্রকল্প নিয়ে তাঁরাও প্রয়োজনীয় মতামত দিতে পারেন। জেলার প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিধায়করা।
দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কলকাতার পরই বিজেপি সরকারের ডেস্টিটনেশন দুর্গাপুর। মুখ্যমন্ত্রীও প্রশাসনিক বৈঠক করতে আসছেন। দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে উন্নয়নের নকশা তৈরি হবে।
দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, আমার এলাকায় কী কী কাজ চলছে, তা শনিবার বৈঠকে জেনে নেব। কোনো অবৈধ কাজ নজরে এলে তা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলব।
পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, আমার এলাকায় বহু পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধানরা অফিসে আসছেন না। এতে মানুষের সমস্যা হচ্ছে। বৈঠকে তা তুলে ধরব।