


গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদীর চর যেন সোনার খনি। দুর্ভেদ্য পথ, পুলিশ প্রশাসনের ধরপাকড় ও হাজার বাধা উপেক্ষা করে তুলে আনা হচ্ছে বালি। চক্র এতটাই শক্তিশালী, অবৈধ এই কারবার বন্ধ করতে অভিযানে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ভূমি দপ্তরের আধিকারিকরাও।
পালাবদলের পর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন, আইসি, ওসি এবং ভূমি দপ্তরের আধিকারিকরা লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে ট্রাক্টর দিয়ে বালি পাচার আপাতত বন্ধ হয়েছে। কিন্তু এখন প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে দুর্গম এলাকায় নদীতে নৌকা নামিয়ে বালি পাচার চলছেই। বলা যায়, ডোন্ট কেয়ার মনোভাব নিয়েই কারবার চালিয়ে যাচ্ছে মাফিয়ারা। এর পিছনে আছে মোটা বখরার হিসাব।
ভালো মানের এক ট্রাক্টর বালির দাম তিন থেকে চার হাজার টাকা। সাধারণ বালির মূল্য দেড় থেকে দু’হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠে। বালি তোলা থেকে শুরু নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করার জন্য শ্রমিক, গাড়ির তেল এবং চালকের খরচ মেরেকেটে হাজার টাকা। বাকি টাকা সরাসরি চলে যায় মাফিয়াদের পকেটে। বিজেপির অভিযোগ, গত কয়েক বছর এই বালির ব্যবসায়ীরা স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের মদতেই কোটি কোটি টাকা আয় করে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। মোটা ভাগ পেয়েছেন আগের শাসক দলের একাংশ নেতা।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকারের বক্তব্য, আগে তৃণমূল নেতাদের মদতে বেশিরভাগ জায়গায় এই বালির কারবার চলত। প্রশাসন এসব বন্ধ করতে সর্বশক্তি দিয়ে নেমেছে। বৈধ বালির ঘাট যাতে লিজ দেওয়া হয়, সেই বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়ালের মন্তব্য, দলের নেতারা এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত নেই। নীচুস্তরের কর্মীদের কথা বলতে পারব না। তবে, আমরাও বালি পাচার বন্ধ করার বিষয়ে বহুবার প্রশাসনকে জানিয়েছি।
পাচারের বাড়বাড়ন্ত থামাতে বৃহস্পতিবার বিজেপির বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন জেলাশাসক বালা সুব্রহ্মণ্যম টি ও পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল। জেলাশাসক বলেন, বালি পাচার রুখতে লাগাতার অভিযান চলছে। শুধুমাত্র স্টক করা বালি বৈধ চালানের মাধ্যমে দেওয়া হবে। কিছু ঘাট লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কুমারগঞ্জ থেকে শুরু হয়েছে আত্রেয়ী নদী বালুরঘাটের উপর দিয়ে বাংলাদেশে চলে গিয়েছে। এই যাত্রাপথে বহু জায়গায় অবৈধভাবে বালি খাদান তৈরি করে কারবার চলছে। অভিযোগ, ওই টাকার ভাগ সরাসরি তৃণমূল নেতাদের হাতে চলে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের নীচুস্তরের কিছু কর্মীর হাতেও যাচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রশাসন এবং পুলিশের অভিযান এড়াতে বালি মাফিয়ারা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে ফেলেছে। প্রশাসনের আধিকারিকদের গাড়ি কোন পথে যাচ্ছে তার দ্রুত আপডেট দেওয়া হয় সেই গ্রুপে। ফলে, বেশিরভাগ অভিযানে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন আধিকারিকরা। এবার তাই আরও সতর্ক হয়ে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা চলছে।