নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা ভোটে বাংলার শাসক ও প্রধান বিরোধী দলের ‘ডিজিটাল মহাযুদ্ধ’র সাক্ষী হতে চলেছে বঙ্গবাসী। গত সপ্তাহেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আমরা বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ প্রকল্প চালু করেছে। সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপির আইটি সেল বিশেষ সক্রিয়। ভারতীয় রাজনীতিতে স্যোশাল মিডিয়ার প্রত্যক্ষ ব্যবহারের সার্বিক বাস্তবায়ন গেরুয়া শিবির প্রথম চালু করেছিল। তারপর একাধিক ডান ও বামপন্থী দল সেটি অনুসরণ শুরু করে। সেই পথে হেঁটে এবার বঙ্গ বিজেপির সঙ্গে সরাসরি ডিজিটাল লড়াইয়ে নামছে তৃণমূল। জোড়াফুল শিবিরের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক দলীয় নেতা-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার করে পদ্ম পার্টি। তার মোকাবিলায় ‘আমরা বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’দের নামাচ্ছে তৃণমূল। সূত্রের দাবি, কয়েকদিনে এই মাধ্যমে কাজ করতে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী আবেদন করেছে। বিশেষ ঝাড়াই-বাছাই করে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন হবে। তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষন দিয়ে উপযুক্ত ‘যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
রীতিমত পরিকল্পনা করে ভোটের আগে মাঠে নেমেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তার মোকাবিলায় এবার বিকল্প পথ খুঁজতে নেমেছে বিজেপি। পাঁচ হেভিওয়েট ডিজিটাল বিশেষজ্ঞকে কলকাতায় উড়িয়ে আনছে গেরুয়া শিবির। বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত তাঁরা এই রাজ্যের বিজেপির পাঁচটি সাংগঠনিক জোনের দায়িত্বে থাকবেন। সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের স্যোশাল মিডিয়া প্রধান অমিত মালব্য এবং সাধারন সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী । বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাজ্য বিজেপির পাঁচটি জোনের অধীনে থাকা বিধানসভা আসনগুলির দায়িত্বে ওই ডিজিটাল বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলির সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তাঁরাই নেবেন। ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (সাবেক ট্যুইটার) হ্যান্ডল, ইনস্ট্রাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যমে পার্টির প্রচার চালাবেন তাঁরাই। পাশাপাশি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের নেতিবাচক তথ্য সেখানে তাঁরাই তুলে ধরবেন। যার মূল উদ্দেশ্যে, বিজেপির দিকে ভোটারদের মন ঘোরানো। এক বিজেপি নেতার কথায়, প্রতীক জৈনের আই প্যাক তৃণমূলের ডিজিটাল যোদ্ধা তৈরি করেছে। কিন্তু বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগ তাদের দলের কর্মীদের দিয়ে গঠিত। ফলে দলীয় কর্মীরা অনেক বেশি সেই কাজে আন্তরিক। উল্টোদিকে আই প্যাকের মতো পেশাদার সংস্থার কর্মীরা টাকার বিনিময়ে কাজ করছে। সেখানে বাইরে থেকে কিছু ছেলেমেয়েকে নিয়ে নয়া প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। ওই নেতার দাবি, ’২৬’এর নির্বাচন, তৃণমূলের বিসর্জন এবং ‘বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই’ —আপাতত এই জোড়া স্লোগান সারা রাজ্য সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে হবে।