নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর প্রক্রিয়া যখন মধ্য গগনে, বিশেষ করে ইনিউমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার পর্ব একেবারে শেষ পর্যায়ে, তখন হঠাৎই দু’পা পিছু হাঁটল নির্বাচন কমিশন। ফর্ম জমা দেওয়া থেকে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ—সবেতেই পিছিয়ে গেল তারা। নিজেদের ঘোষিত নির্ঘণ্ট ধরে রাখতে পারল না নির্বাচন কমিশন। এই গোটা বিষয়ে তৃণমূলের নৈতিক জয় দেখছে রাজনৈতিক মহল। কেননা, এসআইআর প্রক্রিয়া হাতে সময় নিয়ে, সুস্পষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে করা হোক, প্রথম দিন থেকেই দাবি করে আসছে তৃণমূল। এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বজায় জারি রেখেছিল রাজ্যের শাসক দল।
রবিবার নির্বাচনের তরফে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন যে নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে গোটা পর্ব সাতদিন করে পিছিয়ে গিয়েছে। ইনিউমারেশন ফর্ম জমার দিন ৪ নভেম্বর থেকে বেড়ে হয়েছে ১১ নভেম্বর। খসড়া ভোটার তালিকা ৯ ডিসেম্বরের পরিবর্তে প্রকাশ হবে ১৬ ডিসেম্বর। আর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারির বদলে ১৪ ফেব্রুয়ারি। কমিশনের তরফে এই দিন বদলের কারণ প্রসঙ্গে অনেকেই মনে করছেন, তৃণমূলের লাগাতার আন্দোলন। আর তৃণমূল প্রথম দিন থেকেই বলে আসছে, এসআইআরের কাজ দু’বছরের পরিবর্তে কেন তড়িঘড়ি দু’মাসে করা হচ্ছে? এত তাড়াহুড়ো যে ঠিক হচ্ছে না, চাপে পড়েই তা বুঝতে পারে কমিশন। আর বিএলও’রা মানসিক চাপে রয়েছেন। অসুস্থও হয়ে পড়েছেন অনেকে। এসব এতদিনে বুঝতে পেরেই কমিশন সময়সূচিতে বদল আনল। ধারণা করছেন অনেকে।
তবে, মাত্র সাতদিন সময় বৃদ্ধি কেন? সেই প্রশ্ন নির্বাচন কমিশনের দিকে ছুড়ে দিয়েছে তৃণমূল। এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও সাংসদ পার্থ ভৌমিক একযোগে বলেন, সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। নির্বাচন কমিশনের আচরণের জন্যই আম জনতার মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও বুথ লেভেল অফিসার মিলিয়ে ৪০ জন মানুষ মারা গিয়েছেন! এত মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশন নেবে তো?
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর এত আত্মহত্যার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করেছেন অনেকে। এই ব্যাপারে তৃণমূলের অভিযোগ, কমিশনের হাতে রক্তের দাগ লেগে আছে! বাংলার মানুষ তাঁদের অনেক সহনাগরিককে হারিয়েছেন। এর দায় কমিশন নেবে তো? মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, পরিকাঠামোহীন একটি ক্ষেত্র তৈরি করে তড়িঘড়ি এসআইআরের কাজ শেষ করতে চায় কমিশন। এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একদিন জনতার কাছে মাপ চাইতেই হবে কমিশনকে। সাংসদ পার্থ ভৌমিকের কথায়, এসআইআর নির্ঘণ্ট নির্বাচন কমিশন নিজেরাই ধরে রাখতে পারল না। কমিশন তার গরিমা হারিয়েছে। বিজেপি দলের স্বার্থে কমিশন কাজ করছে, সেটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
পাশাপাশি, কমিশনকে বিঁধে তৃণমূল এটাও উল্লেখ করেছে, সাতদিন সময়সীমা বৃদ্ধি করলেও বিশেষ কোনও সুবিধা হবে না। গোটা প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কমপক্ষে দু’বছর প্রয়োজন। তৃণমূলের প্রশ্ন, কমিশনের রোল অবজারভার ডায়মন্ডহারবার লোকসভার অন্তর্গত ফলতায় যাচ্ছেন। তাঁরা নন্দীগ্রাম বা বালুরঘাটে যাচ্ছেন না কেন? অন্যদিকে, পার্থ ভৌমিক উল্লেখ করেছেন, দিল্লির কাছে বাংলার প্রাপ্য দু’লক্ষ কোটি টাকা। কেন্দ্র এটা দিয়ে দিলে বিএলওদের বেতন ১২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করে দেবে সরকার।