নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অন্যান্য জেলার মতো উত্তর ২৪ পরগনায় জেলা পরিষদেও ‘মেন্টর’ নিয়োগ করল রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তর। মেন্টর হলেন অশোকনগর বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক ধীমান রায়। কো-মেন্টর হলেন বাগদার প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। প্রশাসনের একটি সূত্রের দাবি, গ্রামীণ এলাকায় কাজে গতি আনতেই এই উদ্যোগ সরকারের।
কে এই ধীমান রায়? সূত্রের খবর, ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব অশোকনগরের প্রার্থী হিসাবে প্রথমে ধীমানবাবুর নাম ঘোষণা করে। তিনি প্রচারও শুরু করে দেন। কিন্তু অজানা কোনও কারণে তাঁর পরিবর্তে ওই কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত তৃণমূল প্রার্থী করে নারায়ণ গোস্বামীকে। তিনি ভোটে জয়লাভও করেন। তখন থেকে নারায়ণবাবুর সঙ্গে ধীমানবাবুর দূরত্বও বাড়তে শুরু করে। তবে এখন সেই দূরত্ব কিছুটা হলেও কমেছে বলে মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাছাড়া, গত পুরভোটে ধীমান রায় জয়ী হয়েছেন। তাঁকেই পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে চাইছিলেন তৃণমূল কর্মীদের একটি বড় অংশ। কিন্তু, এক্ষেত্রেও তাঁর কপালে শিকে ছেঁড়েনি! আপাতত ধীমানবাবু পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছেন। বর্ষীয়ান এই নেতাকেই এবার জেলা পরিষদের ‘মেন্টর’ পদে বসানো হল।
অন্যদিকে, ২০২১ সালে বিশ্বজিৎ দাস বাগদা বিধানসভা থেকে বিজেপির বিধায়ক হন। পরে দল বদল করে ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে বনগাঁ লোকসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হন বিশ্বজিৎ। কিন্তু হেরে যান। এখন তিনি বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাঁর ছেলে শুভজিৎ দাস জেলা পরিষদের সদস্য। এবার তাঁকে জেলা পরিষদের কো-মেন্টর পদে আনল তৃণমূল। ধীমানবাবু বলেন, ‘আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবন। দল আমাকে মেন্টরের দায়িত্ব দিয়েছে। আগামীতে জেলা পরিষদের সবার সঙ্গে আলোচনা করে উন্নয়নের কাজে আরও গতি আনব।’ বিশ্বজিৎবাবু বলেন, ‘আমি বহুদিন ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় কাজ করছি। জেলার মানুষের জন্য বাড়তি কী করা যায়, সেদিকে গুরুত্ব দেব।’