নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ৪০-২১ ফর্মুলায় সমবায় ভোটে আসন ভাগাভাগি করে নিল তৃণমূল ও বিজেপি। বিজেপির কোটায় পাওয়া ২১টির মধ্যে আবার সিপিএমকে দু’টি এবং আইএসএফকে একটি আসন ছাড়া হল। মহিষাদল থানার বেতকুণ্ডু গ্রাম পঞ্চায়েতের ধর্মপুর সমবায় কৃষি সমিতির ৬১টি আসনে এমনই এক ফর্মুলায় আসন বণ্টন হয়ে গেল। মঙ্গল ও বুধবার দু’দিন ওই সমবায়ে ৬১টি আসনে মনোনয়ন তোলা এবং জমার দিন ধার্য ছিল। বুধবার দুপুর সাড়ে ৩টেয় ওই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। সারাদিন তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি এবং সিপিএমের নেতা-কর্মীরা এক জায়গায় বসে মনোনয়নপত্র জমা করলেন। শুধু ডেলিগেট নির্বাচন নয়, ওই সমবায়ের ডিরেক্টর নির্বাচনেও আগাম সমঝোতা পাকাপোক্ত করা হয়েছে। মোট ১২জন ডিরেক্টরের মধ্যে তৃণমূলের চারজন এবং বিজেপির চারজন প্রতিনিধি থাকবেন বলে ঠিক হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৫মে লোকসভা নির্বাচন ছিল। তার আগের রাতে বেতকুণ্ডু গ্রাম পঞ্চায়েতের ধর্মপুর গ্রামে খুন হন তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য শেখ মইবুল। মোট ৪২জন বিজেপি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়। প্রায় ১০জন গ্রেফতার হয়। বাকিরা গাঢাকা দিয়েছিল। ধীরে ধীরে তারা জামিন নিয়ে বাড়ি আসে। ওই সমবায় সমিতির নির্বাচন নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে এলাকা সরগরম ছিল। খুনের ঘটনায় জামিন পাওয়া বিজেপি কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জামিনের কাগজ দেখতে চায় পুলিশ। তা নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ পৌঁছয়।
ধর্মপুর সমবায় সমিতির নির্বাচন ঘিরে গণ্ডগোলের আশঙ্কা করছিল তৃণমূল ও বিজেপি দুই দল। বেতকুণ্ডু গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপির সংগঠন শক্তপোক্ত। লোকসভা ভোটের সময় ওই খুনের ঘটনার পর থেকে বিজেপি কিছুটা ব্যাকফুটে। তবে, তৃণমূলের পালে হাওয়া লেগেছে। এই অবস্থায় সমবায় ভোটে গণ্ডগোলের আশঙ্কায় উভয় দল সমঝোতা করতে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি শেখ নিজামুদ্দিন, বিজেপির উপপ্রধান অর্ধেন্দুশেখর জানা প্রমুখ এক জায়গায় বসে আসন বণ্টন নিয়ে সিদ্ধান্ত পাকা করে ফেলেন।মহিষাদলের সমবায়ে এই আসন সমঝোতা নিয়ে তৃণমূলের কর্মীদের অনেকেই ক্ষুব্ধ। বিধানসভা ভোটের আগে এই ঘটনা সাধারণ কর্মীদের কাছে ভুল বার্তা দেবে বলে তাঁদের বক্তব্য। শীর্ষ নেতৃত্বকে না জানিয়ে এভাবে আসন বণ্টন করা যায় কি না, তা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।
বেতকুণ্ডু গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিজেপির অর্ধেন্দুশেখরবাবু বলেন, আমরা ওই সমবায়ে লড়াই করলে ৬১টি আসনেই জয়ী হতাম। কিন্তু, তৃণমূল ভোটে জেতার জন্য সন্ত্রাস চালাবে। তাই ঝামেলায় না গিয়ে আসন ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৬১টি আসনের মধ্যে আমরা ২১টি আসন পাই। তারমধ্যে সিপিএমকে দু’টি এবং আইএসএফকে একটি আসন ছেড়েছি।
তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি শেখ নিজামুদ্দিন বলেন, ভোট না করে আসন-সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমবায়ে সরাসরি প্রতীকে লড়াই হয় না। তাই নিচুতলায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।ধর্মপুর সমবায় সমিতির ভোটের দায়িত্বে থাকা সিপিএম নেতা সুশান্ত দাস বলেন, এসআইআরের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তাই কতজন মনোনয়ন জমা করেছেন, জানি না। সিপিএমের জেলা কমিটির সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি। মহিষাদলের ধর্মপুর সমবায় সমিতির মনোনয়ন তোলা ও জমা চলছে।