Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঝড়বৃষ্টির রাতে জমা জলেই প্রচার বিরোধীদের, নাটক বলল তৃণমূল

ভোট বড়ো বালাই! তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও ইস্যুর খোঁজে মরিয়া বিরোধীরা!

ঝড়বৃষ্টির রাতে জমা জলেই প্রচার বিরোধীদের, নাটক বলল তৃণমূল
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ভোট বড়ো বালাই! তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও ইস্যুর খোঁজে মরিয়া বিরোধীরা! রাতের এক পশলা বৃষ্টি থামতে না থামতেই  জল জমা রাস্তায় হাজির বিজেপি ও সিপিএম প্রার্থী। কোথাও হ্যান্ডমাইক হাতে প্রার্থী হাঁটলেন জমা জলে পা ডুবিয়ে। কোথাও আবার ছাতা মাথায় জল থইথই 

Advertisement

রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিকাশির বেহাল দশা ভোটারদের দেখিয়ে দিলেন প্রার্থী। সেসব ছবি 
ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যামে ভাইরাল। সেখানেও তর্ক-বিতর্কের ঝড় উঠেছে। যদিও বিরোধীদের এই তৎপরতাকে নাটক বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।
বরানগর, পানিহাটি, উত্তর দমদম সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জল জমার সমস্যা দীর্ঘদিনের। বাম জমানায় বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান জল জমত। তবে সেই সময় এলাকায় অনেক ফাঁকা জায়গা ও পুকুর ছিল। ফলে বৃষ্টির জল বের হওয়ার অনেক সুযোগ ছিল। কিন্তু নগরায়নের ফলে জলাজমিতে উঠেছে একের পর এক আবাসন। বহু পুকুর ভরাট করে ফেলা হয়েছে। ফলে বারবার নিকাশি সংস্কার, খাল সংস্কার করেও সমস্যা মেটানো যাচ্ছে না। এক-দু’পশলা বৃষ্টি হলেই উত্তর শহরতলির বিভিন্ন এলাকা জলবন্দি হয়ে পড়ছে। সোমবার রাতে প্রায় এক ঘণ্টা ঝড়বৃষ্টির ফলে বহু এলাকার রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সেই রাতেই হ্যান্ডমাইক হাতে বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ নেমে পড়েন বরানগর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে। নিয়োগীপাড়ার ডোমবাগান মাঠ এলাকায় প্রচারে যান। জমা জলের উপর দিয়েই এলাকায় জমাটি প্রচার সারেন তিনি। তৃণমূল প্রার্থীর কথার রেশ ধরে বলেন, ‘আপনাদের বিধায়ক বলেছেন, বরানগর গামলার মতো। সেটা কেমন, দেখতে এসেছি। আপনাদের এই অবর্ণনীয় দুর্ভোগের হাত থেকে রেহাই চাইলে একবার আমাদের সুযোগ দিন।’ বিজেপি প্রার্থীকে পালটা কটাক্ষ করে স্থানীয় তৃণমূল নেতা অঞ্জন পাল বলেন, ‘ওঁর বাড়ির কাছে বেশি বৃষ্টি হলে জল জমে না? বৃষ্টি থামার কিছু সময়ের মধ্যে জল বেরিয়ে যাচ্ছে কি না, সেটাই মূল বিষয়। গত ১৫ বছরে কয়েক কোটি টাকা খরচে নিকাশি সংস্কার, বাগজোলা খাল সংস্কার সহ নানা কাজ হয়েছে। তাই বাম জমানার মতো এক কোমর জল তিন-চার দিন দাঁড়িয়ে থাকে না। উনি পরিযায়ী ভোটের পাখি হিসাবে নাটক করছেন।’ 
বৃষ্টির মধ্যেই পানিহাটির সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত ছাতা মাথায় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১ নম্বর মহাজাতি নগর এলাকায় প্রচারে যান। রাস্তায় তখন জল থইথই করছে। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন কলতান। সেখানে পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্যের বন্যা বয়ে যায়। সৌগত সেনগুপ্ত নামে পানিহাটির এক বাসিন্দা লিখেছেন, ‘বামফ্রন্ট সময়ে মনে হয় তুমি 
কখনো আসনি। তখন পুরোটাই জলের তলায় থাকত। কারেন্ট চলে গেলে আসতে দু’-তিন দিন লাগত।’ সেখানে অবশ্য পালটা কোনো 
মতামত দেননি কলতান। তিনি বলেন, ‘পানিহাটির মানুষ তাঁদের অভিজ্ঞতায় জানেন, বিগত ১৫ বছরে শহরের কী পরিস্থিতি হয়েছে। জমা জল, আবর্জনা, রাস্তাঘাটের কী ভয়াবহ পরিস্থিতি! আমরা এই পরিস্থিতির বদল 
ঘটাব।’ পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলেন, ‘ওঁর পানিহাটি নিয়ে অভিজ্ঞতা সীমিত। তাই হয়তো এমন বলছেন। আগে কোমরসমান জল জমত। এখন নিয়মিত নিকাশি সংস্কার হচ্ছে। পূর্তদপ্তর এইচ বি টাউন থেকে মুড়াগাছা পর্যন্ত মাটির পাঁচ মিটার নীচ দিয়ে নতুন নিকাশি পরিকাঠামো তৈরির জন্য ৩৬ কোটির পকল্প নিয়েছে। সস্তা প্রচারের জন্য উনি এসব করছেন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ