Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়া জেলা আদালতে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, প্রতারণার ফাঁদে বিচারপ্রার্থীরা

হাওড়া জেলা আদালত চত্বরে ক্রমেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য।

হাওড়া জেলা আদালতে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, প্রতারণার ফাঁদে বিচারপ্রার্থীরা
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া জেলা আদালত চত্বরে ক্রমেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য। কখনও জুনিয়র আইনজীবী, কখনও আবার ল ক্লার্ক পরিচয় দিয়ে আদালতের অন্দরমহল থেকে শুরু করে গেটের বাইরেও ঘোরাফেরা করছেন এই চক্রের সদস্যরা। টাকার বিনিময়ে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আদালতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠছে। দালালদের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছে বহু মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন আইনজীবী মহল।

Advertisement


জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরেই হাওড়া জেলা আদালত চত্বরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালালচক্র। আইনজীবী ও রেজিস্টার্ড ল ক্লার্কদের মতোই পোশাক পরে ওই চক্রের সদস্যরা আদালত চত্বরে ঘোরাফেরা করেন। আবার অনেক সময় আদালতের গেটের বাইরেও মক্কেল খুঁজতে দেখা যায় তাঁদের। মূলত গ্রামাঞ্চল থেকে বিভিন্ন মামলার কাজে হাওড়া জেলা আদালতে আসা অসহায় বিচারপ্রার্থীদেরই টার্গেট করছেন তাঁরা। ভালো আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কখনও পাঁচ হাজার, কখনও দশ হাজার, আবার কখনও তারও বেশি টাকা অগ্রিম হিসাবে নেওয়া হচ্ছে। বদলে অনেক ক্ষেত্রেই বিচারপ্রার্থীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ভুয়ো নথি। দালালদের দেওয়া তারিখে আদালতে এসে বহু মানুষ বুঝতে পারছে যে, তারা প্রতারিত। গত কয়েক মাসে এমন ঘটনার সংখ্যাও বেড়েছে বলে দাবি আইনজীবীদের একাংশের।


আইনজীবীদের মতে, এই দালালচক্রের জন্য সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন জুনিয়র আইনজীবী ও রেজিস্টার্ড ল ক্লার্করা। তাঁদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় এক বছর আগে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে জেলা আদালতের বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার টাঙানো হয়। ল ক্লার্কদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাকবিধিও বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু তাতেও দালালদের দৌরাত্ম্যে কোনও লাগাম টানা যায়নি বলে অভিযোগ। হাওড়া আদালতের আইনজীবী স্বপন কোলে বলেন, দালালরা বিচারপ্রার্থীদের সরাসরি আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেই দেন না। ফলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরাও অনেক সময় জানতেই পারেন না প্রতারণার বিষয়টি। অন্যদিকে হাওড়া ক্রিমিনাল কোর্ট বার লাইব্রেরির সভাপতি সমীর বসুরায়চৌধুরী বলেন, ল ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশনের অন্তর্ভুক্ত স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মী ছাড়া আদালতে অন্য কারও কাজ করার অধিকার নেই। বহিরাগত দালালদের দৌরাত্ম্যে আদালতের পরিবেশ ও সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ