Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

ট্রেন্ডসেটার মমতা জনসংযোগ হোক বা স্বাস্থ্যরক্ষা, তুরুপের তাস হাঁটা

শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম হাঁটা। নীরোগ থাকার সেরা উপায়। সুগার, প্রেসার সব পালায়।

ট্রেন্ডসেটার মমতা জনসংযোগ হোক বা স্বাস্থ্যরক্ষা,  তুরুপের তাস হাঁটা
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম হাঁটা। নীরোগ থাকার সেরা উপায়। সুগার, প্রেসার সব পালায়। বলছেন চিকিৎসকরাই। ঝানু রাজনীতিবিদ থেকে এই প্রজন্মের তরুণ রাজনীতিবিদরাও বলছেন, গাড়ি নয়, সেরা জনসংযোগ সম্ভব হাঁটাতেই। মানুষের পালস বুঝতে, আপন করতে, ক্ষোভ-দুঃখ শুনতে ও প্রশমিত করতে হাঁটার জুড়ি মেলা ভার! একইসঙ্গে শরীরও ঝরঝরে এবং তুমুল ফিট থাকে। 

Advertisement

একের পর এক রাজনৈতিক পরাজয়ে বিধ্বস্ত শীর্ষ কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে অক্সিজেন জুগিয়েছিল ’২২ ও ’২৪ সালে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত জনসংযোগের ‘ভারতজোড়ো যাত্রা’ ও ‘ভারতজোড়ো ন্যায় যাত্রা’। অন্ধ্রপ্রদেশের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস রাজাশেখর রেড্ডির ’০৩ সালের অন্ধ্রপ্রদেশের ১১টি জেলা জুড়ে ‘পদযাত্রা’ আজও মনে রাখে মানুষ। তাঁর কেরিয়ারের মাইলফলক হয়ে ওঠা সেই ‘পদযাত্রা’ নিয়ে পরে বিখ্যাত সিনেমাও হয়েছিল—‘যাত্রা’। 
দশকের পর দশক ধরে হেঁটে নিমেষে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে পৌঁছে লাখো মানুষের নয়নের মণি হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠমহল সূত্রের খবর, প্রতিবাদ মিছিল, নির্বাচনী প্রচার, জনসভার উদ্দেশে রওনা দিয়ে হাঁটা—সবমিলিয়ে ভোটপ্রচারের রোজদিন কমবেশি ২০ কিমি হেঁটেছেন তিনি। রাস্তায় নেমে তিনি একবার হাঁটা শুরু করলে, আচ্ছা আচ্ছা দলীয় শীর্ষনেতারা পর্যন্ত হাঁফিয়ে পড়েন। কোনওদিন হাঁটা কম হলে মমতা ট্রেড মিলে হেঁটে রোজকার কোটা পূরণ করে নেন। এই বয়সেই তাঁর এই সুপার এনার্জি এবং হাঁটার অভ্যাসের জন্য অসুখবিসুখ বাগে ফেলতে পারেনি ‘বাংলার বাঘিনীকে’।  
‘ট্রেন্ডসেটার’ মমতার এই প্যাশন যে শুধু স্বাস্থ্যরক্ষা‌ নয়, ভোট যুদ্ধে সুপার-সফল হওয়ারও অন্যতম মাধ্যম, বুঝেছেন আজকের তরুণ তুর্কি রাজনৈতিক নেতানেত্রীরাও। দলের আদিবাসী সমাজের জনপ্রিয় নেত্রী বীরবাহা হাঁসদা বললেন, ‘বিনপুরের একটি অঞ্চল কভার করা মানে প্রায় ২৫-৩০ কিমি হাঁটা। পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাস থাকায় বাবাকে দেখেছি। মা ৬৩ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ফিট। আর আমরা আদিবাসী মানুষ এমনিতেই প্রচুর হাঁটি। নির্বাচনীর প্রচারকালে কিছু জায়গায় মানুষ জল ও অন্য সমস্যা দেখাতে বাড়ি যেতে অনুরোধ করেছিলেন। ঠা ঠা রোদের মধ্যেও গিয়েছি। তারপর সেখানে যখন দেখেছি, সমাজের মানুষ লোটা হাটে অভ্যর্থনা জানাবেন বলে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে, পরিশ্রমের গ্লানি মুছে গিয়েছে। ‘দিদি’কে বিধানসভাতে দেখেছি, যখন ওঁর ঘরে বসে গল্প-আড্ডা হচ্ছে, তখনও তিনি অধিকাংশ সময়ই বসে নেই। পায়চারি করছেন, হাঁটছেন। বেহালা পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ বললেন, ভালোই বুঝেছি, হেঁটে জনসংযোগের বিকল্প নেই। প্রচারকালে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন ১০ কিমি করে হেঁটেছি। বাকি তিনদিন ঘরোয়া বৈঠক বেশি করেছি। তখনও হেঁটেছি দিনে ৫ কিমি মতো। পানিহাটির সিপিএম-এর তরুণ প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তও বিশ্বাস করেন, জনসংযোগে হাঁটার জুড়ি মেলা ভার। সেই ১৮ মার্চ থেকে সকাল ও বিকালে ৪ ঘণ্টা করে হেঁটেছি। হেঁটে কথা বলার মতো অভাব-অভিযোগ শুনতে পারার সুযোগ আর কোথাও পাব? 
কিন্তু আস্তে, জোরে, থেমে আবার হনহন করে হাঁটার কি আদৌ লাভ আছে? বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ জ্যোতির্ময় পাল বলেন, শরীর ভালো রাখার সেরা ওষুধ হাঁটা। বিক্ষিপ্তভাবে হাঁটলেও কিছুটা লাভ পাওয়া যায় বইকি। আদর্শ নিয়ম হল, দিনে ৩০ মিনিট বা সপ্তাহে তিনদিন ৪৫ মিনিট করে হাঁটা। তবে এই প্রচণ্ড গরমে যে কোনও পেশার মানুষই কাজের প্রয়োজনে প্রচুর হাঁটাহাটি করলে সঙ্গে অবশ্যই জল এবং ওআরএস রাখতে ভুলবেন না যেন।   লিখেছেন বিশ্বজিৎ দাস

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ