


পরামর্শে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ শান্তনু মণ্ডল,
এশিয়ান যোগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সম্পাদক যোগ বিশেষজ্ঞ উজ্জ্বল কুমার ঘোষ এবং আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুমিত সুর।
খুদে থেকে বয়স্ক। ইদানীং চোখের সমস্যার অন্ত নেই। একটুতেই চশমা লেগে যায়। কারও চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে, কারও আবার চোখে ব্যথা,কাছের বা দূরের জিনিস দেখতে না পাওয়ার সমস্যা। জল পড়া থেকে চোখ লাল হয়ে যাওয়া। হাজারও অসুখ। চিকিৎসকদের কথায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিস ও ড্রাই আইজ অর্থাৎ চোখ শুকিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি গুরুতর চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের সূত্রে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা। অবসরে মুঠোফোনে ডুব দেওয়া বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি দেখা। বিপদ সবেতেই। এই পরিস্থিতিতে চোখ ভালো রাখতে, দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে কী করা উচিত— তা নিয়েই বিস্তারিত জানালেন বিশেষজ্ঞরা।
সমাধানের উপায়
তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক, সঠিক ডায়েট দুই, ব্যায়াম তিন, সুস্থ জীবনযাপন।
ব্যায়াম ও আসন
পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মধ্যে চোখ অমূল্য। তাই দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে কয়েকটি ব্যায়াম ও আসন অত্যন্ত জরুরি।
এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় হাঁটাহাঁটি করুন। সকালে ঘাসের উপর হাঁটলে আরও ভালো। বড়ো পাত্রে জল নিয়ে মুখ ডুবিয়ে দিন। আর মুখ ডোবানো অবস্থায় চোখ খুলুন। তবে জল যেন স্বচ্ছ হয়।
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বা বসে দু’হাত মুঠো করে বুড়ো আঙুলকে উপরে রেখে বুকের কাছে নিয়ে আসুন। এবার নাক বরাবর দু’হাত সামনের দিকে প্রসারিত করুন। এরপর বাঁ হাত একই জায়গায় রেখে ডান হাতকে ডানদিকে প্রসারিত করুন। ঘাড় একই জায়গায় রেখে ডানহাতের বুড়ো আঙুলের দিকে দৃষ্টি রাখুন। বাঁ হাতের ক্ষেত্রেও একই অভ্যাস করুন।
পদ্মাসনে বা চেয়ারে বসে দু’হাত নাক বরাবর প্রসারিত করে হাত মুঠো করে বুড়ো আঙুল উপরের দিকে রাখুন। হাত ভাঁজ করে আঙুলকে নাকের ডগায় লাগান। আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। এরপর হাত ভাঁজ করে আঙুল ভ্রুর মাঝে আনুন। চোখের দৃষ্টি যেন আঙুলের দিকেই থাকে। ঘাড় সোজা রেখে সোজা হয়ে বসে দাঁড়িয়ে চোখ সংকোচন প্রসারণের অভ্যাস করা যেতে পারে। একইভাবে পদ্মাসনে বা চেয়ারে বসে চোখের দৃষ্টি ভ্রূর মাঝে, পরে নাকের ডগায় এবং শরীর থেকে দেড়-দু ফুট দূরে প্রদীপ বা কোনো গোল ছোটো জায়গায় দৃষ্টি রাখুন। পলক না ফেলে ৩০ সেকেন্ড দৃষ্টি রেখে একটু বিশ্রাম নিন।
কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারের সময় প্রতি ২০ মিনিট পর একটু দূরের বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। প্রয়োজনে অন্যত্র ঘুরে আসতে হবে। পামিং করা যেতে পারে। হাতের তালু একে অন্যের সঙ্গে ঘষুন এবং উষ্ণ করুন। তারপর চোখ বন্ধ করে হাতের তালু চোখের উপর রাখুন। সোজা হয়ে বসে উপর, নীচ, সামনে, বাঁ দিকে ও ডানদিকে চোখ ঘোরাতে হবে। আই রোলিংও খুব উপকারী।
সুস্থ জীবনযাপন
সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খেতে হবে। এর জেরে চোখের আর্দ্রতা বজায় থাকে। অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম দরকার। ধূমপান চোখের স্নায়ুর ক্ষতি করে। তাই ধূমপান বর্জন করা করা উচিত। সকালে মুখ ধোয়ার সময় ভালো করে জলের ঝাপটা দিয়ে চোথ পরিষ্কার করে নিন। চোখের ক্লান্তি দূর করতে আলু থেঁতো করে বা শসার টুকরো চোখের উপর রাখা যেতে পারে।
শুয়ে শুয়ে বই পড়া যাবে না। কাছ থেকে টিভি দেখবেন না। রোদে বাইরে বেরলে ভালো মানের সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। তবে চশমা, কাজল, লেন্স ইত্যাদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। বছরে অন্তত একবার চোখের পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো।
শোভন চন্দ